বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকালে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাইফুর রহমান রানা সমর্থিত গ্রæপের নেতাকর্মীরা শাহিন শিকদার সমর্থিত কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীকে মারধর করেন।
এর জের ধরে সকাল ১০টার দিকে শাহিন শিকদার গ্রæপের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে রানা সমর্থিত আব্দুল্লাহ আল মামুনের লোকজনকে ধাওয়া করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে আব্দুল্লাহ আল মামুনের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজ মোড় সংলগ্ন শাহিন শিকদারের দলীয় কার্যালয়ে হামলা করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এই হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৯ নেতাকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে সোহেল নামে এক যুবদল কর্মীর হাতের কব্জি গুরুতর জখম হয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে বিকালে আবার মামুনের লোকজন শাহীন শিকদারের বাড়িতে হামলা চালায়।
এসময় শাহীন শিকদারের লোকজনকে মারপিট করে। এসময় শিকদারের দুইজন সমর্থক আহত হয়। ৭/৮টি মটরসাইকেল ভাংচুর করে হামলাকারীরা।
আহতরা হলেন দেয়ানের খামার গ্রামের মইনুদ্দিনের ছেলে মাইদুল ইসলাম,পাইকের ছড়া গ্রামের শাহালমের ছেলে সেলিম, মমতাজ আলীর ছেলে উমর ফারুক, গোলাম কিবরিয়ার ছেলে আইয়ুব আলী, দক্ষিণ ছাট গোপালপুর মমিনুল সিকদারের ছেলে স্বদেশ সিকদার, কামাত আঙ্গারিয়ার সুলতান মিয়ার ছেলে সোহেল,মজিদের ছেলে লিমন, জব্বারের ছেলে ইয়াকুব, আহম্মদ আলীর ছেলে আব্দুর রহমান, তিলাই ইউনিয়নের সাইফুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম মনু।
ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়. আহতদের মধ্যে সোহেল নামের একজন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ,পাঁচজন ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভার্তি আছেন। বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে গিয়েছেন।
শাহিন শিকদার বলেন, ‘সকালে কয়েকজন নেতাকর্মী ফুল দিতে গেলে রানা ভাইয়ের সমর্থকরা তাদের কিলঘুষি ও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। পরে ছাত্রদলের এক ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়। এ নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার সমর্থন করা বিএনপির লোকজনের ওপর হামলা করে।
তাদের হামলায় যুবদল কর্মী সোহেলের হাতের কব্জি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে। আরও কমপক্ষে পাঁচ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি দলত্যাগ করিনি। আমি ঘটনাস্থলে না গেলেও তারা আমার দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে। পরে বিকালে আবারও হামলা করে আমার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
বেশ কয়েকটি মটর সাইকেল ভাংচুর করে। আমার বাড়ির প্রধান গেটে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করে। পরে তারা আমার নেতাকর্মীদের ৭/৮টি মটরসাইকেল ভাংচুর করে।
সংঘর্ষের ঘটনায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এটি নিছক ছোট ঘটনা। তেমন কিছু হয়নি। আর শাহিন শিকদার বহিষ্কৃত নেতা।
তার দলীয় কার্যালয় কি থাকতে পারে ? আমরা কোনও কার্যালয় ভাঙচুর করিনি।’ বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রশ্নে মামুন বলেন, ‘সামান্য হাতাহাতি হয়েছে। এটা তেমন কিছু নয়।’