


অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েও পাচ্ছেন না নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্ব প্রদানে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই অধ্যাপক। এনিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ সুত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ২০২৪সালে ইউএনও বরাবর ১৬জন শিক্ষক ১৪টি বিষয়ের উপর অভিযোগ দাখিল করেন।
এনিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করলেও এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, তদন্ত চলাকালে আদালতের স্মরণাপন্ন হন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তবে আদালত থেকে কোন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি। ফরহাদ হোসেন ব্যাকডেটে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পদে ১০জনকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানে।
তাদের বেতনের জন্য ২০২৬সালে অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে। তিনি নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করেছেন। কামরুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারণ করে আমাকে দায়িত্বভার দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া করে গেছেন কিন্তু আদৌও সেটি আলোর মুখ দেখেনি।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির আপোদকালীন সভাপতি মো. ইমরানুজ্জামানের কাছে বারবার ধর্না দিয়েও লাভ হয়নি বাধ্য হয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত ভাবে জানিয়েছি। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা ফারুক অভিযোগ করে বলেন, জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে ২০০৯সালে ফরহাদ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
২০১১ সালেও ব্যবস্থাপনা কমিটির ছয়জন সদস্য তার বিরুদ্ধে শিক্ষাবোর্ডে অভিযোগ করেছিলেন। বলেন, আমার বাবা মজির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন ২০১৮সালে। মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তিনি জানান, ৩৭মাস থেকে কলেজটির কোন কমিটি গঠন হয়নি একমাত্র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কারণে। অচলাবস্থা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বর্তমান অধ্যক্ষকে দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন। একই এলাকার তিলিয়া বাঁশফোর অভিযোগ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে আমি, আমার স্বামী এবং শ্বশুড় কাজ করে গেছেন। এখন জয় বাঁশফোর ও তার স্ত্রী পুর্নিমা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন অথচ আমাদের কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। অর্থের বিনিময়ে অন্য মানুষকে নিয়োগ দেয়া হলো। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।
স্থানীয় অভিভাবক এনামুল হক বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন আওয়ামী পরিবারের মানুষ। তার পরিবার পরিজন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিগত দিনে প্রতিষ্ঠানটিকে তিনি পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহার করেছেন। স্থানীয় এমপিকে ব্যবহার করে এহেন কোন কাজ নেই যে তিনি করেন নি, এই সময়ে এসেও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন, যা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে।
ওই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন অভিভাবক সদস্য মশিয়ার রহমান জানান, কমিটি না থাকলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সক্ষমতা বোঝা যায় না।
উন্নয়ন, অভাব ও সংকট মোকাবেলার জন্য কমিটি প্রয়োজন কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানটি কুক্ষিগত করে রেখেছেন। তার কারণে নিয়মিত কমিটি গঠন হচ্ছে না কলেজটির। বলেন, প্রতিষ্ঠানটা নষ্ট হয়ে গেলো, অধ্যক্ষ অবৈধ কাজ করে চলেছেন। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় কোন মন্তব্য জানা যায়নি তার। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানটির ফাইল পত্র পর্যালোচনা করে দেখেছি। আদালতে মামলা চলমান। যেহেতু আইনি বিষয় সে কারনে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না।
জেলা জজ আদালতের সরকারী কৌঁশুলী এ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সোয়েম বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহকারী জজ আদালত (ডিমলা) মোকদ্দমা দায়ের করলে সেটি খারিজ হয়ে যায় এবং পরবর্তিতে আপিল করেন। আদালত থেকে কোন স্থগিতাদেশ বা নির্দেশনা দেয়া হয়নি। আইনি ভাবে সহকারী অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামানকে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িতভার অর্পণে আইনি কোন সমস্যা নেই।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, আদালত থেকে কোন নির্দেশনা না থাকায় কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না ওই প্রতিষ্ঠানে। আপিল হয়েছে সে কারণে আদালতের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।