


রংপুরের হারাগাছের ধুমের নদী (বা ধুম নদী) এলাকাকে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন হারাগাছের ধুম নদী পরিদর্শন করে তিনি একথা বলেন এই নদী ও এর আশেপাশের মনোরম পরিবেশকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজম, নৌকা ভ্রমণ এবং পিকনিক স্পটসহ বিনোদনমূলক সুযোগ-সুবিধা তৈরির উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় পর্যটন শিল্পের বিকাশ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিনোদন ব্যবস্থা নিশ্চিত কর নদী পাড়ের সৌন্দর্য বর্ধন, বসার স্থান, হাঁটার রাস্তা এবং নিরাপদ নৌ-ভ্রমণের ব্যবস্থা করা।এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।এই প্রকল্পের মাধ্যমে হারাগাছ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরা এবং পর্যটকদের জন্য একটি আদর্শ স্থান তৈরির লক্ষ্যে কাজ চলছে। হারাগাছ পৌর শহর থেকে ২ কিলোমিটার পূর্ব দক্ষিণে এবং কাউনিয়া সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ঐতিহাসিক ধুম নদীর অবস্থান। এর আয়তন ১৮৬.৩৬ একর। কথিত আছে ধুমনদী তৈরি করা হয় ইংরেজ বিরোধী নানা ইতিহাসে ঘেরা এই ধুমনদী রক্ষনাবেক্ষনে নেওয়া হয়নি কোন উদ্যোগ।
বিগত এরশাদ সরকারের আমলে তৎকালীন পর্যটন ও বিমান মন্ত্রী মাইদুল ইসলাম ধুম নদীকে একটি পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে তোলার এবং এলাকাটিকে পর্যটন শিল্পের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। কিন্তু তা বাস্তবাতার মূখ দেখেনি। পরবর্তীতে মন্ত্রী জিএম কাদের একই প্রতিশ্রুতি দিলেও তাও বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ বিনোদন প্রিয় মানুষের জন্য ধুমনদী এলাকাটি হয়ে উঠতে পারে রংপুরের শ্রেষ্ঠ বিনোদনের একমাত্র কেন্দ্র। এখানে বে-সরকারী উদ্যোগে একটি চিড়িয়াখানা গড়ে উঠলেও তত্ববধায়ক সরকারের আমলে হরিণ, পশু পাখি জব্দ করায় তা বন্ধ হয়ে যায়।
ঐতিহাসিক এই ধুমনদীর বিশাল বিশাল আকৃতির মাছের ঢেউ তুলে যাওয়ার দৃশ্য, কর্ত্তি বা চাপিলা মাছের সারিবদ্ধ ভাবে চলাফেরা, অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ, বালিহাস, পানকৌড়ির ডুবে ডুবে মাছ শিকারের দৃশ্য আগন্তুকদের মন কাড়ে। ধুমনদী ঘুরতে আসা নুরআমিন জানান, স্বাধীনতার ৫৪বছরে কোন সরকারই রংপুরের মানুষের বিনোদনের কথা ভাবেনি। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবী সরকারের পৃষ্টপোষকতায় ধুমনদী কে ঘিরে গড়ে উঠবে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিনোদন বা পর্যটন কেন্দ্র।