
২৪ জুলাই-আগষ্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ যখন সকল জরাজীর্ণতাকে মুছে ফেলে নব উদ্যমে দেশ পূন:গঠনের জন্য স্বপ্ন দেখছে, গঠিত হয়েছে সংস্কার কমিশন, তখন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ (দফাদার) আশিকুর রহমান (সোনা) এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে । এলাকাবাসীর দাবি, তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশিকুর রহমানের ভাই, ভাতিজা ও ভাগ্নেরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এমনকি আশিকুর রহমান নিজেও মাদক মামলার আসামি বলে জানা গেছে। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে নানান ভয়ভীতি ও মামলা-হামলার হুমকি দিয়ে সাধারণ মানুষকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার স্বপ্নে মর্নেয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রাম পুলিশ আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এক ভুক্তভোগী মোঃ আজিজুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে তিনি আশিকুর রহমান এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার প্রমাণ তদন্তপূর্বক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এলাকার সাধারণ মানুষের মতে, মাদক ব্যবসার এমন বিস্তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তাই তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।একই এলাকার প্রতিবেশী ফারুক হোসেন বলেন, গ্রাম পুলিশ সোনার নেতৃত্বেই তার নিজের ভাই – ভাতিজারাই মাদকের ব্যবসা করে।অপর একজন বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সোনা চৌকিদার মর্ণেয়া ইউনিয়নের মাদক কারবারিদের গডফাদার। তার শাস্তি হলেই আমি আনন্দিত হব। ভাঙ্গাগড়া আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের সভাপতি বলেন,মর্ণেয়ায় মাদক ব্যবসার মূল হোতা সোনা। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই মাদক ব্যবসা বন্ধ হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “ইতিমধ্যে পত্রিকার মাধ্যমে এ বিষয়ে অবগত হয়েছি এবং আজ গ্রামবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Related