


রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া সেচ পাইপ অনুমোদন, বিএডিসি সেচ এরিয়ায় পাইপ লাইন বসানো এবং সরকারী বাঁধা – নিষেধ উপেক্ষা করে পাকা রাস্তা খনন করে, পাইপ স্থাপন যা সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন এবং এই বিষয়টি তুলে ধরে কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর জন মনে ক্ষোভ দেখা দিলে, ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর উপজেল এলজিইডি একটি লিখিত তদন্ত প্রতিবেদন দেয়।
এলজিইডি প্রদত্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দক্ষিণ পানাপুকুর গামী রাস্তায় সেচ পাইপ স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু রাস্তাটি এলজিইডির আইডিভূক্ত হওয়ায় এলজিইডি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন ছিল, যা নেয়া হয়নি। রাস্তা কেটে সেচ পাইপ স্থাপন করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করেছে বা ভবিষ্যতে করবে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, জনবহুল এই রাস্তা দিয়ে সব সময় ভারি জানবাহন চলাচল করে, রাস্তার ভিতর খনন করে মাটি সরিয়ে পাইপ স্থাপন করার কারণে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। পাশাপাশি যেখানে আগে থেকেই বিএডিসি অনুমোদিত চারটি সেচ রয়েছে, সেখানে বরেন্দ্র কতৃপক্ষ কেন যাচাই বাছাই না করে দেখেই সরকারী অর্থ অপচয় করে নতুন করে পাইপ লাইনের অনুমোদন দিয়েছে? আর সরকারি নিষেধ অমান্য করে কেনই বা বরেন্দ্র জেলা প্রকৌশলী বে – আইনিভাবে নিজেই রাস্তা খননের অনুমতি প্রদান করলেন? অথচ বাস্তবতায় পুরো কর্মকান্ডই অপ্রয়োজনীয় এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জনসাধারণের মধ্যে।
বরেন্দ্র উপসহকারী প্রকৌশলী বিদ্যুত রায় বলেন, যে এলাকায় নতুন করে পাইপ লাইন অনুমোদন দেয়া হয়েছে, সেই এরিয়ায় বিএডিসি অনুমোদিত সেচ আছে এটা আমার জানা ছিল না। অনুমোদন প্রত্যাশীরা সেই তথ্য আমার কাছে গোপন করেছে।বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, যে এলাকায় সরকারি অনুমোদিত সেচ রয়েছে, সেখানে বরেন্দ্রের পাইপ লাইন যাওয়ার সুযোগ নেই। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেচ পাইপ স্থাপন কাজটি অনুমতি ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে, যা একটি গুরুতর অনিয়ম। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “রাস্তা কাটার বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়রা রাস্তা থেকে দ্রুত পাইপ অপসার করে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবী প্রশাসনের জানিয়েছেন।