
বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী, দেশের সকল খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী, ডিলার এবং মিল মালিকদের লাইসেন্স নবায়নের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন না হলে লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হবে।
তবে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সরকারি এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে উদাসীনতা । উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে লাইসেন্স নবায়নের জন্য গেলে ব্যবসায়ীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দাবি করছেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে মৌখিকভাবে নবায়ন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।”
স্থানীয় এক ডিলার মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “আমরা সময়মতো যাবতীয় কাগজপত্র ও ফি নিয়ে গেলে তারা( খাদ্য অফিস) বলে, উপর থেকে নিষেধের কথা বললেও কোনো লিখিত নির্দেশনা বা প্রমাণ খাদ্য অফিস দেখাতে পারে নাই।”
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সালেহ আজিজের ৮ মে ২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন না হলে লাইসেন্স বাতিল হবে। অথচ উপজেলা পর্যায়ে সেই নির্দেশনার কোনো প্রতিফলন না থাকায় বিপাকে পরেছেন ডিলাররা । এতে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও দ্বিধার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা উম্মে কুলসুমা খাতুন জানান, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে নবায়ন ফি নিতে নিষেধ করেছেন।” তবে এ বিষয়ে দাপ্তরিক কোন লিখিত প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সালেহ আজিজ বলেন, আমি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি মৌখিকভাবে , আপনি মন্ত্রলয়ে কথা বলেন।আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোন বক্তব্য দিবো না।
এ অবস্থায় গঙ্গাচড়ার ডিলার ও ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত লিখিত ব্যাখ্যা প্রকাশ এবং কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করতে না পারলে লাইসেন্স বাতিলের দায় কে নেবে? সেটি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Related