1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
৩ হাজার টাকার জন্য মারধর, অপমান সইতে না পেরে স্বর্ণ কারিগরের আত্মহত্যা! মরদেহ নিয়ে দোকানের সামনে পরিবারের অবস্থান | দৈনিক সকালের বাণী
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

৩ হাজার টাকার জন্য মারধর, অপমান সইতে না পেরে স্বর্ণ কারিগরের আত্মহত্যা! মরদেহ নিয়ে দোকানের সামনে পরিবারের অবস্থান

ঠাকুরগাঁও অফিস
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫
  • ২১৮ জন দেখেছেন

মাত্র ৩ হাজার টাকা বকেয়াকে কেন্দ্র করে কাপড় দোকানের মালিকের মারধর ও অপমানের শিকার হয়ে ললিত বনিক (৪০) নামে এক স্বর্ণ কারিগর আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ওই কারিগরের মৃত্যুর পর তার পরিবার মরদেহ নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারের ‘রেখা ক্লথ স্টোর’-এর সামনে অবস্থান নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহত ললিত বনিক বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের বনিকপাড়া গ্রামের মংলু বনিকের ছেলে।

ললিতের ছেলে শুভ বনিক জানান, নেকমরদ বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের দোকান থেকে প্রায় এক বছর আগে তার বাবা ৪ হাজার টাকার কাপড় বাকিতে কিনেছিলেন। এর মধ্যে ৩ হাজার টাকা বকেয়া ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুর রহমান তার বাবাকে নেকমরদ বাজারে দেখতে পেয়ে বকেয়া টাকার জন্য চাপ দেন এবং টাকা না দেওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে সরে যেতে নিষেধ করেন। এ সময় ললিত বনিকের স্ত্রী ও ছেলেও সেখানে উপস্থিত হন। ললিত সময় চাইলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে ললিতের ছেলে দীপক বনিক (১৭) এর মাথা ফেটে যায়।

শুভ বনিক আরও জানান, ছেলের মাথা ফাটা দেখে তার বাবা অপমান সইতে না পেরে একটি কীটনাশকের দোকান থেকে ৪টি ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট কিনে খেয়ে ফেলেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু দিনাজপুর মেডিকেলে নেওয়ার পথেই বিকেল ৫টায় দিকে ললিত মারা যান। এরপরই তারা মরদেহ নিয়ে আব্দুর রহমানের দোকানের সামনে অবস্থান নেন।

ললিত বনিক সুজন বনিকের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। সুজন বনিক জানান, ছেলে ও পুরো বাজারের লোকজনের সামনে মারধর ও অপমান সইতে না পেরে ললিত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। যখন ললিত ক্ষমা চাইতে শুরু করেন, তখনই তারা বুঝতে পারেন তিনি গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছেন।

ললিতের স্বজনরা ও বাজারের লোকজন এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। বাজারের অনেকে বলছেন, মাত্র ৩ হাজার টাকার জন্য এভাবে অপমান ও মারধর করা ঠিক হয়নি।
এ ঘটনার পর থেকে কাপড় দোকান মালিক আব্দুর রহমান দোকান বন্ধ করে পালিয়েছেন।
তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে কাপড় দোকানদার আব্দুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা আক্তার জানান, “টাকা পাইলে তো চাইবেই। ওদের স্বভাব হয়ে গেছে। মামলা করবে করুক, কোনো চিন্তা করি না।” তিনি আরও জানান, তার স্বামী কাজে বাইরে আছেন।

রানীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরশেদুল হক জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। স্বজনরা অভিযোগ দিলে মামলা হবে। এদিকে, এই ঘটনায় হিন্দু-মুসলিম হওয়ায় এলাকার হিন্দুদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )