স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কাউয়ামারী বাজার এলাকায় মিছিল চলাকালে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কলেজ শিক্ষার্থী ও কুরআনের হাফেজ আজিজুল ইসলাম (১৯) মারা যান। একইদিন আউলিয়ারহাট বাজারে আনন্দ মিছিলে হোঁচট খেয়ে পড়ে আহত হন নুরুজ্জামান (৪৫)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রায় ১১ মাস পর, চলতি বছরের ৩০ জুন, হাতীবান্ধার সিংগীমারী গ্রামের মোশারফ হোসেন পাটগ্রাম থানায় আজিজুলের মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনসহ জেলার চার উপজেলার ৪৪ জনকে আসামি করা হয়। একইদিন নুরুজ্জামানের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রীরামপুর গ্রামের আলী হোসেন বাদী হয়ে আরও একটি হত্যা মামলা করেন, যেখানে অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়।
নিহত আজিজুলের বাবা আব্দুর রহিম জানান, “আমার ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে, এটি একটি দুর্ঘটনা। কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। আমরা মামলা করিনি, কিন্তু অপরিচিত একজন বাদী হয়ে মিথ্যা মামলা করেছে। আমি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।” আজিজুলের মা রেজিয়া বেগম বলেন, “আমাদের ছেলের মৃত্যু নিয়ে কেউ যেন মামলার ব্যবসা না করে।”
অন্যদিকে নুরুজ্জামানের স্ত্রী সুফিয়া বেগম বলেন, “বাদীকে চিনি না, মামলা করতেও বলিনি। স্বামীর লাশ কবর থেকে তোলার অনুমতি দেব না।”
এদিকে মামলার বাদী মোশারফ হোসেন দাবি করেন, “আজিজুল আমার সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর পরিবার সাহস না পাওয়ায় আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। মামলা নিয়ে ব্যবসার অভিযোগ ভিত্তিহীন।” নুরুজ্জামান হত্যা মামলার বাদী আলী হোসেনও জানিয়েছেন, তিনি আসামিদের চেনেন না এবং মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।
এই মামলাগুলোতে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর নামও রয়েছে। আসামি করা কৃষকদল নেতা হিটলার হোসেন অভিযোগ করেন, “দলীয় কোন্দলের কারণে আমাদের আসামি করা হয়েছে।”
পাটগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “বাদী মামলা দিলে গ্রহণ করতেই হবে। মামলা প্রত্যাহারের আবেদন এখনো পাইনি।”