
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পৌরসভার দুই কর্মচারীর ওপর হামলা ও মারপিটের ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ ও ঝাঁড়ু মিছিল এবং কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।সোমবার (১৮ আগস্ট) এ সব কর্মসূচিতে সৈয়দপুর পৌরসভার সব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। কর্মবিরতি থাকায় পৌরসভার সকল সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ফলে পৌরসভা কার্যালয়ে সেবা না পেয়ে ফিরে যান অনেকে।
জানা গেছে, গত রোববার (১৭ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সৈয়দপুর শহরের গোয়ালপাড়া কলাহাটি এলাকার মর্ডান পাবলিক টয়লেটের কাছে পৌরসভার কিছু জায়গা দখলে নিচ্ছিল এলাকার কয়েকজন যুবক। আর লোকমুখে এ খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ সেখানে ছুঁটে যান সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী ও পৌর সার্ভিস এসোসিয়েশন রংপুর বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন শাহ্ এবং পৌরসভার যানবাহন পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোকছেদ আলী।
এ সময় তারা এলাকার ওইসব যুবকদের পৌরসভার জায়গায় দখলে বাঁধা দিলে এনিয়ে তাদের উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
এর এক পর্যায়ে ওই এলাকার যুবকেরা পৌরসভার দুই কর্মচারীর ওপর চড়াও হয়ে তাদের এলোপাতারি বেদম মারপিট করতে থাকে। এতে সুজন ও মোকসেদ গুরুতর আহত হয়। এসময় তাদের রক্ষা করতে গিয়ে তহিদুল ইসলাম ভান্ডারি নামে এক যুবককেও মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সেখানে ছুঁটে যান। পরে আশেপাশের লোকজনের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। রাতেই এ ঘটনাটি গোটা শহরে চাউর হয়ে পড়ে। সকালে সৈয়দপুর পৌরসভার সব বিভাগের কর্মকর্তা – কর্মচারী পৌর কার্যালয়ের সামনে বসে কর্মবিরতি শুরু করেন।
দুপুরে তারা পৌর কর্মচারি সুজন ও মোকসেদ এবং পথচারি তহিদুল ইসলাম ভান্ডারিকে মারপিটে আহত করার প্রতিবাদে শহরে একটি বিক্ষোভ ও ঝাঁড়ু মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে তারা সমাবেশ করেন। এতে বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীর আকতার শাহীন, সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল খালেক সাবু, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো শহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক, হিসাবরক্ষক আবু তাহের, পৌর কর্মচারী মো.নাদিম, টিটু, হবিবর রহমান, ফারুক ও শান্ত বাসফোর প্রমুখ। বক্তারা এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ, ক্ষোভ ও নিন্দা জানান।
সেই সঙ্গে অবিলম্বে পৌর কর্মচারীদের ওপর হামলা ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এদিকে এ ঘটনায় বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকী দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। এতে বিএনপির সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার শাহীন, বিএনপির অন্যতম নেতা সহকারী অধ্যাপক শওকত হায়াত শাহ, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমির হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম শহর আমীর আলহাজ্ব মো. শরফুদ্দিন খানসহ পৌরসভার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকী ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পৌরসভা কার্যালয়ে সামনে কর্মকর্তা-কর্মবিরতিস্থলে গিয়ে তাদের দাবি-দাবার কথা ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং আগামি তিনদিনের মধ্যে পৌর দুই কর্মচারীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও মারপিটের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহবান জানান। তবে আহত কর্মচারিদের পক্ষে বলা হয় হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে তাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
সৈয়দপুর পৌরসভার কর্মচারীরা বলেন, রবিবার রাতের ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে তাদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফইম উদ্দিন বলেন, oএখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. নুর- ই- আলম সিদ্দিকী বলেন, পৌরসভা কর্মচারীদের উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Related