


ফসলের শত্রু অনেক। এর মধ্যে পোকামাকড় ফসলের যথেষ্ট ক্ষতি করে। এ দেশে ফসলের ক্ষতিকর পোকা দমনে প্রধানত বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, যা পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বর্তমানে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) কৃষিতে একটি আধুনিক ধারণা হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে কীটনাশক ছাড়াও বিভিন্ন যান্ত্রিক ও প্রাকৃতিক উপায়ে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আলোকফাঁদ, যা এখন কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বোচাগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সকল ব্লক ও ইউনিয়নে একযোগে আলোকফাঁদ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ দীনেশ চন্দ্র রায়, কৃষিবিদ মোছা: আরজুনা বেগম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: সোহেল রানা, ৪ নম্বর আটগাঁও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: তুরিন তানভীর চৌধুরী বিতু সহ প্রায় শতাধিক কৃষক-কৃষাণী। আলোকফাঁদ মূলত ফসলে পোকার উপস্থিতি যাচাই করার যন্ত্র। তবে এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে আলোতে আকৃষ্ট হয়ে বহু ক্ষতিকর পোকা ধ্বংস হয়।
ধানের মাজরা পোকা, সবুজ পাতাফড়িং, বাদামি গাছফড়িং, সাদা পিঠ গাছফড়িংসহ নানা ক্ষতিকর পোকা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পাশাপাশি সবজি ফসলের কাটুই পোকা, সরুই পোকা, পাতাসুড়ঙ্গকারী পোকার মতো ক্ষতিকর পোকাও আলোকফাঁদে ধরা পড়ে। সহজ উপকরণে ফাঁদ তৈরির কৌশল হওয়ায় কৃষকদের কাছে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এতে খরচ কম, কার্যকারিতা বেশি এবং সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এটি পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই ঝুঁকিমুক্ত। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।