


মুখরোচক ও পুষ্টিগুণে ভরপুর সজনে ডাটা অসময়ে মিলছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কাঁচাবাজারে। দামে বেশি হলেও অসময়ে সজনে পেয়ে অনেকটা খুশি ক্রেতারা। শহরের রেলওয়ে পার্ক এলাকার সবজি ক্রেতা শাহিনুর আলম খোকন বলেন, রমজান মাসে পরিবারের ছেলে মেয়েরা মাছ মাংসের চেয়ে সবজি খেতে বেশি পছন্দ করে। তাই বাজারে সবজি কিনতে এসেছি। নতুন সবজি হিসেবে ১ পোয়া কেজি সজনে ডাঁটা কিনলাম। দাম ধরলো ৬০ টাকা। যা কিনা বাজারের সবচেয়ে দামি সবজি। এনজিও কর্মী বীথি রায় বলেন, আমরা এনজিওর চাকুরি করি, সারা দিন সময় পাইনা তাই বিকেলে রেলওয়ে পার্ক বাজারে এসেছি। বাজারে এসে সজনে ডাঁটা দেখে লোভ হলো।
পার্বতীপুর শহরের রেলওয়ে পার্ক এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী মশিউর রহমান বলেন, বাজারে এখনও দেশীয় জাতের সজনে ওঠেনি। এ কারণে ভারত থেকে আমদানি করা সজনে ডাঁটা আমরা বিক্রি করছি। খুচরা বাজারে আমরা প্রতি কেজি সজনে ডাঁটা বিক্রি করছি ২৪০ টাকা কেজি দরে। এখন শুরু হচ্ছে রমজান মাস। অন্য মাসের তুলনায় এই রমজান মাসে সবজির চাহিদা বেড়ে যায়। পার্বতীপুর শহরের কাঁচাবাজার এর ব্যবসায়ী নুর আলম বলেন, বুধবার বাজারে ৩ কেজি ওজনের একটি পাতা কপি ১০টাকা, আলুর কেজি ৮-১০টাকা, পেঁয়াজ ২৫ কেজি, টমেটোর কেজি ১৫টাকা, বেগুনের কেজি ৪০ টাকা, রসুনের কেজি ৭০ টাকা ও কাঁচা মরিজ ৮০-৯০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য সবজির চেয়ে সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় সজনে যে কোনো বয়সের মানুষ খেতে ভালোবাসে। শজিনা গাছ গ্রাম বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে অতি পরিচিত একটি নাম। প্রতি বছর শীতের শেষে গাছে ফুলে ফলে ভরে যায়।
উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীর বসত বাড়ির আশেপাশে, রাস্তার ধারে, পুকুর পাড়ে, এমনকি মাঠের ফসলের আইলের গাছে গাছে এখনও প্রচুর পরিমাণে সজনে ফুল ধরতে দেখা গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর সজনে ডাটার ভাল ফলন হবে। পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার রাশিদুল হক রাসেল জানান, উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা মিলে ৩১ ব্লকে সজনে চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি ব্লকে ১০০ সজনে চাষে বিনা পুঁজিতে চাষীদের উৎসাহিত করছে। পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব হুসাইন দৈনিক দেশ রুপান্তরকে বলেন, বীজ রোপণ ছাড়াই শুধু শজিনার ডাটা বসত বাড়ির আশেপাশে, রাস্তার ধারে পুকুর পাড়ে, এমনকি মাঠের ফসলের আইলে চাষ করা যায়।
এবার উপজেলার চাষীদের সজনে চাষে বিনা পুঁজিতে বাণিজ্যিকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। এবছর সজনে সম্প্রসারনে প্রতি ব্লকে ১০০ সজনে ডাটা লাগানো হয়েছে। এছাড়া মন্মথপুর ইউনিয়নে ৩ কিলোমিটার জুড়ে সজনে চাষাবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় অনেকেই সজনে চাষাবাদ করে অপ্রত্যাশিত লাভবান হচ্ছেন। আশা করছি, চৈত্র মাসের শেষের দিকে দেশীয় সজনে ডাটা বাজারে পাওয়া যাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সজনে ডাটার বাম্পার ভাল ফলন হবে।