


নীতিমালা উপেক্ষা করে অল্পসংখ্যক প্রশিক্ষনার্থীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে পার্বতীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। পার্বতীপুর উপজেলা যুব উন্নয়নের দুই মাসব্যাপী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ভ্রাম্যমান কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ১০ জনের স্থলে ৬ জন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দেখা যায়। প্রশিক্ষনে সুযোগ পেয়েছে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দুই সহকারি কর্মকর্তা আব্দুল মাজেদ এর মেয়ে, হাফিজুল হকের মেয়ে ও অফিসের কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল মালেকের মেয়ে।
প্রশিক্ষণে এই তিন কর্মকর্তার মেয়ে ও জনৈক এক ব্যক্তিসহ ৪ জন অনুপস্থিত রয়েছে। তবে, ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সহকারি ট্রেইনার রোকন ইসলামের দাবী, শুরুতে তারা দুই তিন প্রশিক্ষণে এসেছিল, এরপর থেকে আর আসেনি। বিষয়টি আমি অফিসে বারংবার অবগত করেছি। প্রশিক্ষণে কতজন প্রশিক্ষনার্থী অনুপস্থিত বিষয়ে জানতে চাইলে, পার্বতীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন র্কমকর্তা আনিছুর রহমান গত মার্চ মাসের হাজিরা খাতা কিংবা হাজিরা শীট দেখাতে পারেনি।
তিনি বলেন, হাজিরা খাতা কিংবা হাজিরা শীট করা হয়েছে একত্রে এটা ভুল করেছে। আলাদা করে নতুন করে করা হবে। এই মহুর্তে দেখাতে পারছি না। গত ১ মার্চ শুরু হওয়া এই ভ্রাম্যমান কম্পিউটার প্রশিক্ষণ আগামী ৩০ এপ্রিল শেষ হবে। বাসে ল্যাপটপের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র প্রদান এবং অনেক ক্ষেত্রে ৮ হাজার ৮শ’ টাকা পর্যন্ত ভাতা প্রদান করা হবে। যুবসমাজকে প্রশিক্ষণটি বিনামূল্যে গ্রামীণ যুবকদের হবে। এতে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে না পারা একাধিক আগ্রহিরা হতাশ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরেজমিনে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩টা ৩০ মিনিটের শুরু হওয়া ব্যাচ উপজেলা চত্বরে ভ্রাম্যমান কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ১০ জনের স্থলে ৫ জন প্রশিক্ষনে দেখা মেলে। গ্রামাঞ্চলের বেকার যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কম্পিউটারের বেসিক ও নেটওয়ার্কিং নিয়ে বাসে ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয় সরকার।
দেশের বেকার তরুণ এবং তরুণীদের দক্ষ, স্বাবলম্বী ও আত্মকর্মী গড়ে তুলতে সারাদেশে এ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরাধীন টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস ফর আন্ডারপ্রিভিলেজড রুরাল ইয়ং পিপল অব বাংলাদেশ (টেকাব) শীর্ষক কারিগরি সহায়তায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ভ্রাম্যমাণ বাসে ৪৪ দিনব্যাপী চারটি শিফটে ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ (টেকাব প্রকল্প) গ্রামীণ শিক্ষিত বেকার যুবকদের আত্মনির্ভরশীল করতে ২ মাস মেয়াদী বিনামূল্যে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণ প্রদান করছে প্রতিটি ভ্যানে ৪০ জন (১০ জন করে ৪ ধাপে) প্রশিক্ষণার্থীর অংশ নিবে।
পার্বতীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, মোট ৪০ জন যুবক-যুবতীকে চার ধাপে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি ধাপে ১০ জন করে অংশ নেবে। তবে, ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণে যে ৪ থেকে ৫জন অনুপস্থিত রয়েছে তাদের কাউকে সম্মানী ও সনদপত্র দেওয়া হবে না।
এব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ভারপ্রাপ্ত মো. মাহমুদ হুসাইন রাজু বলেন, আমিও প্রতিদিন সকালে দেখি যে ওই ভ্রাম্যমান গাড়ীতে ৫ থেকে ৬ জন এর বেশি চোখে পড়েনি। কি কারনে প্রশিক্ষণার্থীরা ভ্রাম্যমান কম্পিউটার প্রশিক্ষনে আসছে না। বিষয়টি সম্পর্কে খোজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।