1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন

সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

বিনোদন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১৯ জন দেখেছেন

ভারতের কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রবিবার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। আশার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস এবং আনন্দবাজারের তথ্য অনুসারে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন আশা ভোঁসলে। এক পর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তারপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রোববার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা। ১৯৩৩ সালে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের এক মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আশা। তার বাবার নাম পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর। ভারতের আরেক কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর তার আপন বড় বোন।

দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন সেই সময়ের বিখ্যাত মঞ্চ ব্যক্তিত্ব ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিল্পী। শিশু বয়সে বাবার কাছেই প্রথম সঙ্গীতে তালিম নেন আশা মঙ্গেশকর। তারপর বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের সচিব গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে যান এবং বিয়ের পর ‘মঙ্গেশকর’ পদবী বাদ দিয়ে স্বামীর ‘ভোঁসলে’ পদবি গ্রহণ করেন। তবে গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার কারণে মঙ্গেশকর পরিবার তাকে ত্যাগ করে।
এই দম্পতির তিন সন্তান ছিল, তবে তবে তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল সমস্যাসঙ্কুল। ১৯৬০ তালে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে গণপতি-আশা দম্পতির। তার ২০ বছর পর ১৯৮০ সালে ভারতের বিখ্যাত বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মণের ছেলে রাহুল দেব বর্মণ, যিনি নিজেও বলিউডের বিখ্যাত ও প্রতিষ্ঠিত সুরকার-গায়ক ছিলেন— তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আশা।

দীর্ঘ কয়েক দশকের কেরিয়ারে হিন্দি, বাংলাসহ একাধিক ভাষায় কয়েক হাজার গান গেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক, গজল থেকে ক্যাবারে—প্রতিটি ধারাতেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন তিনি। তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও সমান জনপ্রিয়। সময়ের সীমানা পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে।
বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের অকালমৃত্যু এবং তার জেরে অভব-অনটনের কারণে পরিবারের হাল ধরতে বোন লতার মতো খুব অল্প বয়সে গান গেয়ে উপার্জনের পথে নামতে হয়েছিল আশাকে। ১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাজে বাল’-এ গান গেয়েছিলেন তিনি। তার পরবর্তী আট দশকে বাংলা, হিন্দি, মারাঠিসহ ২০টি ভারতীয় ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন আশা ভোঁসলে। সেসব গাণের বড় অংশই প্লেব্যাক বা সিনেমার গান।

ভারতীয় সঙ্গীতে অবদান ও কৃতিত্বের জন্য সুদীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আশা ভোঁসলে। সেসবের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভারতের চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ। ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন তিনি।
শনিবার আশা ভোঁসলে হাসপাতলে ভর্তি হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা এক বার্তায় মোদি বলেছিলেন, “আশা ভোসলেজি হাসপাতালে ভর্তি শুনে গভীর ভাবে চিন্তিত। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )