1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্মুক্ত না করাসহ অনিয়মের প্রতিবাদে | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন

মানববন্ধন স্মারকলিপি প্রদান: গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্মুক্ত না করাসহ অনিয়মের প্রতিবাদে

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৪১ জন দেখেছেন
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মনিরাম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শিক্ষার্থী ও এলাকার যুবসমাজের জন্য উন্মুক্ত করা এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষার্থীরা, এলাকার যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিক ।
সোমবার (১১ মে) দুপুর ১২টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়-এর সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, এলাকার স্থানীয় যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিক অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠে গাছ রোপণ করায় দীর্ঘদিন ধরে সেখানে খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। এতে তাদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো: আবির হোসেন বলেন, আমাদের স্কুলের একমাত্র খেলার মাঠটি গাছ  লাগানো এবং পাকা বেদি নির্মানের কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। আমরা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারছি না, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: মোকসেদুল ইসলাম বলেন, শুধু মাঠের সমস্যা না, আমাদের পড়াশোনার পরিবেশও ভালো না। ক্লাসরুমে অনেক ফ্যান নষ্ট, গরমে ঠিকমতো বসে ক্লাস করা যায় না। বিশুদ্ধ খাবার পানিরও সংকট রয়েছে আছে। বিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ভোকেশনাল শাখায় কোনো যন্ত্রপাতি নেই, ল্যাপটপ থাকলেও চালু করা হয় না বা ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। এতে আমরা কিছুই শিখতে পারছি না। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: মোকসেদুল ইসলাম বলেন, হোয়াইট বোর্ডে লেখার জন্য মার্কারও থাকে না। আমাদের নিজেদের টাকা দিয়ে মার্কার কিনে  ক্লাস করতে বাধ্য করা হয়, যা আমাদের জন্য কষ্টকর।
যুবসমাজের পক্ষে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, এই মাঠটি শুধু স্কুলের নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের তরুণদের একমাত্র খেলার জায়গা। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুবসমাজ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। সুস্থ বিনোদনসহ খেলাধুলা করতে না পারায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাদক সেবন ও অনলাইন জুয়া।
এলাকার যুবসমাজকে  মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে দ্রুত মাঠটি উন্মুক্ত করা জরুরি। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি ক্লাস অনিয়মিত, ভোকেশনাল শাখায় প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব  রয়েছে, টয়লেটের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর ও ব্যবহার অনুপোযোগী  এবং পুরোনো টিনশেড ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে যা অপসারণ করাও জরুরী । এছাড়া নিয়মিত সমাবেশ হয় না এবং জাতীয় দিবসগুলো যথাযথভাবে পালন করা হয় না বলেও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে ।
সাবেক শিক্ষার্থী শাওন বলেন, আমরা হতভম্ব হয়েছি, আগে মাঠটিতে আমরা প্রতিনিয়তই খেলতাম। কিন্তু দুই বছর যাবৎ এলাকার যুবসমাজকে স্কুল মাঠে টুকতে দেয়া হয় না। অথচ ২৪ মার্চ ২০২৬ স্কুল মাঠে খেলাধুলার বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রধান শিক্ষকের এই নিরব ষড়যন্ত্র সেই প্রজ্ঞাপনকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করার সামিল। আমরা খেলার মাঠ উন্মুক্ত চাই, প্রধান শিক্ষকের শাস্তি চাই।
উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও সচেতন  নাগরিক শহিদুল ইসলাম বলেন,একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার। এটি বন্ধ করে রাখা এবং শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করা খুবই দুঃখজনক। আমরা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে খেলার মাঠ দ্রুত উন্মুক্ত করা, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলার মাঠ তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আন্দোলনকারীরা তাদের ন্যায্য দাবি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং দাবি আদায় না হলে প্রয়োজনে  আরও বৃহত্তর আন্দোলনের  হুঁশিয়ারি দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )