


নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাউস্ট) ‘বাউস্ট ক্রিয়েটিভ মাইন্ডস এক্সপো ২.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে দিনব্যাপী ওই আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার, পিএসসি।
এর আগে সকালে একাডেমিক ভবনের প্রধান ফটকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক্সপোর কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় উপাচার্য বিভিন্ন প্রদর্শিত প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনে সৃজনশীল চিন্তা ও গবেষণামুখী কার্যক্রমের বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে এবং নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে।
এক্সপোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, গবেষণা কর্ম, প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান, প্রকৌশল নকশা, সফটওয়্যার উন্নয়ন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং শিল্প-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মডেল উপস্থাপন করা হয়। প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, বিদ্যুৎ ও শক্তি, উৎপাদন প্রযুক্তি এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক নানা ধারণা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে দর্শনার্থীদের বিস্তারিত ধারণা দেন।
এর পুর দুপুর দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার হলে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন এবং উপস্থাপনার উৎকর্ষতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সেরা প্রকল্পগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। উপাচার্য বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় ও দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত ‘বাউস্ট ক্রিয়েটিভ মাইন্ডস এক্সপো ২.০’ শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশ, গবেষণামুখী মনোভাব সৃষ্টি এবং একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।