1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
চর জাগলেই থেমে যায় নৌপথ, বাড়ে মানুষের কষ্ট | দৈনিক সকালের বাণী
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন

চর জাগলেই থেমে যায় নৌপথ, বাড়ে মানুষের কষ্ট

রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ জন দেখেছেন
কুড়িগ্রামের চিলমারী নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজিবপুর ও নয়ারচর ঘাটে নাব্যতা সংকট প্রকট হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন চরাঞ্চলের যাত্রী, ব্যবসায়ী ও নৌযান চালকেরা। দ্রুত ড্রেজিং করে নৌপথ সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চর রাজিবপুর উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। ফলে নৌপথই এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। চিলমারীর সঙ্গে যোগাযোগে রাজিবপুর ও নয়ারচর ঘাট ব্যবহার করেন রাজিবপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ।
 রাজিবপুর করাতি পাড়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, বর্ষার প্রায় তিন মাস নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। এরপর পানি কমতে শুরু করলে নদীর বিভিন্ন অংশে চর জাগে। কোথাও কোথাও ঘাট থেকে মূল নৌপথও সরে যায়।
আজ ৮ অক্টোবর রাজিবপুর ঘাটে গিয়ে দেখা যায় যেখানে নৌকা ছিল সেখানে পানি কমে অনেক দূর চলে গেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
চর রাজিবপুরে চাকরির সুবাদে বসবাসকারী কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, বর্ষায় নয়ারচর ও রাজিবপুর ঘাট থেকে নৌকায় সহজেই চিলমারী যাওয়া যায়। তবে শুষ্ক মৌসুমে ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। বালুর চর ও কাঁচা রাস্তায় যানবাহন চলাচল করতে চায় না। পাওয়া গেলেও দিতে হয় বাড়তি ভাড়া।
এক যাত্রী বলেন, ‘বন্যার তিন মাস এই ঘাট দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চিলমারী যাওয়া যায়। বাকি সময় পানি কমে গেলে ঘাট থেকে অনেকটা পথ হেঁটে যেতে হয়। ড্রেজিং করা হলে দ্রুত নৌপথে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।থ
নৌকার মাঝি লাল মিয়া বলেন, ঘাটের পাশাপাশি চিলমারীর পথে নদীর বিভিন্ন অংশেও পানি কমে যায়। এতে নৌকা অগভীর জায়গায় আটকে পড়ে। তখন যাত্রীদের নামিয়ে কিংবা নৌকা ঠেলে নৌযান পার করতে হয়।
নয়ারচর ঘাটের খেয়া নৌকার মাঝি আলম মিয়া বলেন, পানি কমলে নয়ারচর ঘাট থেকে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নৌপথ সরে যায়। এতে চরাঞ্চলের মানুষকে পারাপারে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইজুদ্দি বলেন, রাজিবপুর ও নয়ারচর হাট আশপাশের চরাঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বাজার। নৌকা ঘাটে ভিড়তে না পারায় অনেক সময় বাজারের পণ্য মাথায় করে দীর্ঘ পথ যেতে হয়।
রাজিবপুর ঘাটের ইজারাদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএর কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ঘাট ইজারা নেওয়া হলেও এখানে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা নেই। শুষ্ক মৌসুমে চর জেগে ঘাট মূল নৌপথ থেকে দূরে সরে যায়। এতে নৌযান চলাচল ও যাত্রী—দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়।থ
তিনি বলেন, ‘নদী আরও শুকিয়ে গেলে নৌকা স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে না। তখন মানুষ এ পথে আসতে চাইবে না। পার্শ্ববর্তী রৌমারী উপজেলার নৌপথে ড্রেজিং থাকায় সেখান দিয়ে তুলনামূলক সহজে চিলমারী যাওয়া যায়।থ
ঘাট ইজারাদারের দাবি, রাজিবপুর ও নয়ারচর ঘাটের নৌপথে দ্রুত ড্রেজিং শুরু করা প্রয়োজন। নিয়মিত খনন করা হলে শুষ্ক মৌসুমেও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
চিলমারী নদীবন্দর বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব আলম বলেন, ‘প্রতিবছরই নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। বিষয়টি আমরা অবগত আছি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাঁদের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।থ

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )