1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পার্বতীপুরে গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিনি চিড়িয়াখানা | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

পার্বতীপুরে গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে মিনি চিড়িয়াখানা

সোহেল সানী,পার্বতীপুর(দিনাজপুর)
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৮১৫ জন দেখেছেন

মরুভূমির প্রাণী দুম্বা ও বিদেশি ছাগলের খামার আবু তাহের মিঞা এগ্রো ফার্ম নামে দু’বছর আগে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এখন এটি দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আর এটি দেখতে গ্রামীণ নির্মল পরিবেশে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ পার্বতীপুর উপজেলার পল্লীতে পারিবারিকভাবে গড়ে উঠা দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কে ভীড় করছে। এখানে রয়েছে মরুভূমির প্রাণী দুম্বা, চিত্রা হরিণ, কচ্ছপ, ইমু পাখি, ময়ূর, তিন পা ওয়ালা শাহীওয়াল গরু, জার্মান স্পিস কুকুর, বানর, অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু, চীনা হাঁস, ককটেল পাখি, বিদেশি কুকুর, ব্রাহমা মোরগ, বিলেতী ইদুঁরসহ নানা প্রজাতির পশু-পাখি।

 

দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটি অল্পদিনেই সবার দৃষ্টি কেড়েছে। ছুটির দিনে ভিড় বেশি হয়। দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক সিসি ক্যামেরা ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে মেঠো পথ ধরে প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লোকজন আসছেন এখানে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে অবসর সময় কাটাতে চিড়িয়াখানায় ভিড় করছেন দর্শনার্থী। শিশুদের খেলাধুলার জন্য চরকি, দোলনাসহ আরও অনেক কিছুর ব্যবস্থা। একা কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে নিশ্চিতে এখানে ঘুরতে আসা যায়। চিড়িয়াখানার ভিতরেই রয়েছে পিকনিক স্পটও।

 

আছে ক্যাফ পাওয়া যায় চটপটি, কপি, লুডুসসহ গ্রামীন বিভিন্ন পদের খাবার। এখানে ঘুরতে আসতে পারেন দিনাজপুর থেকে ৩৩ কিলোমিটার, পার্বতীপুর থেকে ১৫ কিমি ও ফুলবাড়ী থেকে ২০ কিমি। ২০২৪ সালের মার্চ মাসের শুরুর দিকে প্রায় দুই একর জায়গা নিয়ে এই চিড়িয়াখানাটি গড়ে তুলেছেন পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের উত্তর মরনাই তাহেরপাড়া গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার মো. রইচউদ্দিন মিঞা (বাবলু)। শখের বশে গড়ে তোলা চিড়িয়াখানার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।

দর্শনার্থী ভবানীপুর ডিগ্রি কলেজের ইন্টারমিডিয়েট শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শাফিকা জান্নাত বলেন, গ্রামীণ এলাকায় চিড়িয়াখানা হয়েছে জানতে পেরে বন্ধুদের নিয়ে ছুটে এসেছি। এখানে ঘুরে ঘুরে চিত্রা হরিণ, ময়ূর, কচ্ছপ, ইমু পাখিসহ সব পশু-পাখি দেখেছি এবং বেশ আনন্দও উপভোগ করছি।

৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানহা মুনতাসির জানায়, কচ্ছপ, চিত্র হরিণ, দুম্বা আর ময়ূর সে বইয়ে ছবি দেখেছে। এখানে এসে চোখ দিয়ে দেখছে। চিরিরবন্দর ঘুঘুরাতলী থেকে আসা মো: আফছার আলী বলেন, গ্রামীণ পরিবেশে এমন একটি সুন্দর পার্বতীপুর প্রত্যন্ত পল্লীতে মিনি চিড়িয়াখানা দেখতে পেয়ে আমরা অভিভূত। ভবিষ্যতে বন্ধু-বান্ধর ও আত্মীয় স্বজন নিয়ে পিকনিক করতে এ পার্কে আসবেন।

 

ছোট দুই বোন ঝর্না ও বৃষ্টি কে সঙ্গে করে নিয়ে আসা বাবা মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ছোট ছোট বাচ্চাদের বিনোদনের তেমন কোন জায়গা না থাকায় প্রায় এই মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কে ঘুরতে আসি। এতে করে ছোট বাচ্চাদের বায়না পুরণ হয়। এখানকার পরিবেশও খুব ভালো। উত্তর মরনাই স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা ও টঙ্গী সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাহেদ মন্ডল জানান, ব্যক্তি উদ্যোগের মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কটি দেখতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে। গ্রামীন পরিবেশে মিনি চিড়িয়াখানা ভাবাই যায়না। তার এমন উদ্যোগ আসলেই প্রশংসার দাবি রাখে।

দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কের কেয়ারটেকার আক্তারুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমিসহ ৬-৭ জন কর্মচারী রয়েছে। প্রথমে এটা দুম্বা ও বিদেশি ছাগলের খামার প্রায় আড়াই বছর ছিল। এরপর বিনোদনের জন্য চলতি বছর মার্চে এই জায়গাতে দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক গড়ে তোলা হয়। মানুষের কাছে আকর্ষণ বাড়াতে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার মো. রইচউদ্দিন মিঞা (বাবলু) জানান, তুর্কি দুম্বার ও বিদেশি ছাগলের খামার থেকে মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। শখ ছিলো মিনি চিড়িয়াখানা করার। শেষ পর্যন্ত মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক তৈরী করেছি। সম্প্রতি বন বিভাগ লাইসেন্স সংগ্রহ করেছেন। ভবিষ্যতে উটপাখি, গাধাসহ নানা ধরনের পশুপাখি বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির প্রাণী সংগ্রহের ইচ্ছা রয়েছে আমার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )