
দেশের উত্তরের সীমান্তঘেষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ভরা আমন মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতে না হতেই বোরো ধান চাষাবাদের প্রস্তুতি হিসেবে বীজতলা তৈরি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন ছড়া ও বিল এলাকাগুলোতে কৃষকদের বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কর্মব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ বীজতলায় সেচ দিচ্ছে, কেউ লাঙ্গল অথবা কোদাল দিয়ে বীজতলা চাষ করছে, অনেকেই মই দিয়ে বীজতলা সমান করছেন। আবার কোনো কোনো চাষি অঙ্কুরিত বীজ ধানগুলো বীজতলায় ছিটাচ্ছে পরম যত্নে। এমন দৃশ্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখতে পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বীজতলার জন্য সাধারণত এসব নিচু ও খাল বিলের জমি নির্বাচন করা হয়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুম বা নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এসব নিচু জমি ও বিলের পানি শুকিয়ে যায়। ঠিক তখনই শুরু হয় বীজতলা তৈরির এই মহোৎসব। কুরুষাফেরুষা এলাকায় কৃষক শৈলান চন্দ্র রায় ও গোরকমন্ডল এলাকায় কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, আগে বীজ বপন করতে পারলে ধানের চারা সতেজ সুন্দর হয়। সেই সাথে আগাম বীজতলার চারা রোপণ করলে ধানেরও বাম্পার ফলন ভালো হয় বলে জানান এই দুই কৃষক।
নজরমামুদ এলাকার কৃষক কার্তিক চন্দ্র সরকার ও নাগদাহ এলাকার আসাদুজ্জামান খলিল জানান, এই দুই কৃষক প্রত্যেকেই ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য হাইব্রিড জাতের বীজ রোপন করেছেন। আজ কালের মধ্যে বীজতলা রোপন করা সু-সম্পূর্ণ হবে। এই দুই কৃষক আরও জানান আমাদের অন্যান্য ফসলের চেয়ে ধান আমাদের প্রধান ফসল। তাই সঠিক সময়ে বীজতলা প্রস্তুত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আমরা সঠিক সময়ে ধানের বীজ রোপন করা হয়েছে। আশাকরি বীজতলা ভালো ভাবে বেড়ে উঠলে ভালো ফসলের আশা করেন তারা।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে মোট ১০ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোরো বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫০ হেক্টর জমি। ৩ হাজার ৭০০ কৃষককে কৃষি প্রণোদনার আওতায় এনে কৃষি প্রণোদনার ধান বীজ বিতরণ করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত বীজতলা অর্জন হয়েছে প্রায় ৫০ হেক্টর। আশা এক দেড় সপ্তাহের মধ্যে বীজ রোপন সম্পূর্ণ হবে।
Related