এই সিদ্ধান্তের পরপরই ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট, মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। অনেকেই ওসি শহিদুরের অপকর্মের কথা উল্লেখ করে তার বদলিকে ‘দুর্নীতিমুক্তির পথে এক ধাপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসি শহিদুরের যোগদানের পর থেকে সাধারণ মানুষ নানা হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। রাজনৈতিক মামলায় অজ্ঞাতনামা থাকার সুযোগে অনেক নিরীহ মানুষকে ধরে এনে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকি, একটি কলেজছাত্রীর পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির নামেও তিনি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি, ১৬টি গরু ধরে নিয়ে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবির ঘটনায় তিনটি গরুর মৃত্যুর পর তার দুর্নীতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ওসির বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণের খবরও পাওয়া গেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিক কারণে ওসি শহিদুর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এবং সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আপাতত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুকে আনন্দ প্রকাশ করে একজন লিখেছেন, “অবশেষে ঠাকুরগাঁওবাসী একজন দুর্নীতিবাজ ওসির হাত থেকে মুক্তি পেল। এই বদলি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “ওসি শহিদুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলাম। তার বদলির খবরে মনটা শান্তিতে ভরে গেল।”
অনেকে আবার দ্রুত নতুন ওসির নিয়োগ এবং থানায় একটি সুষ্ঠু ও জনবান্ধব পরিবেশ প্রত্যাশা করছেন। সব মিলিয়ে, বিতর্কিত ওসির বদলির ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ের সামাজিক মাধ্যম এখন আনন্দ আর স্বস্তির জোয়ারে ভাসছে।