


বড় অক্ষরে লেখা লাল রঙের সাইনবোর্ড: “দালাল প্রবেশ নিষিদ্ধ” — সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই বার্তাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভূমি অফিস চত্বরে এমন সাহসী দৃষ্টান্তমূলক ঘোষণা যেমন সচেতন নাগরিকদের ভূমি সেবা প্রাপ্তিতে এনেছে স্বস্তি, তেমনি প্রশংসাও কুড়িয়েছে।
ভূমি সেবা নিতে আসা বড়বিলের আরিফুল ইসলাম সবুজ বলেন, আমি দু’টি নামজারি করেছি, সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোন টাকা লাগেনি, পাশাপাশি কোন দালালের পিছনে ঘুরতে হয়নি। আমি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি উপজেলা ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত করেছেন।
সেবা নিতে আসা বৃদ্ধ আব্দুল মতিন বলেন, আগে কাগজপত্র বুঝতেই পারতাম না। দালালরা বলত যা বলি করো, নয়তো কাজ হবে না। এখন নিজের কাজ নিজেই করতে পারছি। প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
অন্যদিকে তরুণ গঙ্গাচড়া এলাকার মোকারম হোসেন (৩২) বলেন,আমি প্রথমবার জমির নামজারির জন্য এসেছি। ভাবছিলাম দালাল ধরতে হবে। কিন্তু এখানে এসে দেখি কর্মকর্তা – কর্মচারীরা আন্তরিকতার সাথে নিজেরাই সহযোগিতা করছেন। এমন নির্বিঘ্ন সেবা পাব কখনো কল্পনা করিনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি এর নেতৃত্বে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি বলেন,ভূমি অফিস জনগণের, কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর নয়। সাধারণ মানুষ যাতে কোন প্রকার হয়রানি ছাড়াই সেবা নিতে পারে, সেটিই আমাদের অঙ্গীকার। তিনি আরো বলেন, শুধু উপজেলা ভূমি অফিসেই নয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোকেও দালালমুক্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলমান রয়েছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সেবা নিতে আসা কোন মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য হেল্প ডেস্ক রয়েছে। সরাসরি কাউন্টারে এসে নাগরিকরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেই লক্ষ্যে কর্মকর্তারা নিয়মিত মনিটরিং করছেন । এই উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসন চাইছে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ যাতে এই উদ্যোগকে আরও ফলপ্রসূ করা যায়।