1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
গঙ্গাচড়ায় দুর্নীতির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সাময়িক বরখাস্ত | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

গঙ্গাচড়ায় দুর্নীতির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সাময়িক বরখাস্ত

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১১ মে, ২০২৫
  • ১৯৫ জন দেখেছেন

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে একাধিকবার তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় ২ জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধার স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
উত্তর পানাপুকুর গিরিয়ারপাড় দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে । তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০১৪ সালে মো. মনোয়ারুল ইসলামকে জনবল কাঠামো অনুযায়ী এম.এল.এস.এস (পিয়ন) পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে দপ্তরি পদে স্থায়ী করা হয়।
বেতন বিল ফরমে তাঁর পদবি উল্লেখ না থাকলেও প্যাটার্নে তাঁকে নৈশপ্রহরী দেখানো হয়। পরবর্তীতে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়ার বিধান থাকলেও তথ্য গোপন করে নৈশপ্রহরী হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক নামে একজনকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়। দীর্ঘ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত আব্দুর রাজ্জাককে এমপিওভুক্ত করাতে পারেনি । এছাড়া, বিদ্যালয়ে PBGSI স্কিমে বরাদ্দ পাওয়া ৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে কিন্তু শিক্ষক, কর্মচারী ও ফার্নিচার ক্রয় বাবদ ১ লক্ষ্য ৩৮ হাজার টাকা ব্যয় করেন অবশিষ্ট ৩ লক্ষ্য ৬২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ব্যাপারে অধিদপ্তর থেকে তদন্ত করে বিল ভাউচার জমা দেওয়া অথবা উত্তোলন কৃত টাকা ব্যাংকে জমা দিতে বলা হয়। সুপার জালাল উদ্দিন কোন কথা কর্ণপাত করেন নাই , যা সরকারি অর্থ আত্মসাতের শামিল। এ বিষয়ে গত বছর ০৬ নভেম্বর দৈনিক সকালের বাণীসহ অনেক পত্রিকায় দুর্নীতির খবর তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের ভিত্তিতে ১০ গত এপ্রিল ২০২৫ তারিখে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার আহ্বায়ক ছিলেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবতাবুজ্জামান চয়ন। কমিটি গত ৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ১০ এপ্রিল কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হলে জালাল উদ্দিনের দেয়া ব্যাখ্যা প্রশাসনের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ৪ মে ২০২৫ থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
অন্যদিকে কে.জি.(কুতুব গণেশ) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মহন্তের বিরুদ্ধেও বিদ্যালয় পরিচালনায় একাধিক দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার আহ্বায়ক ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান। কমিটি ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আর্থিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতিমূলক আচরণ করেছেন। গত ১০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে তাঁকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁকে হত ৫ মে ২০২৫ তারিখে ‘বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকগণের চাকুরির শর্ত বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর ১৩(১) ধারা এবং ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০২৪’-এর ৫৪(১) ধারা অনুযায়ী ৫ মে ২০২৫ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
সাময়িক বরখাস্তের ফলে উত্তর পানাপুকুর গিরিয়ারপাড় দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট মো. শহিদ আলী এবং কে.জি. ( কুতুব গণেশ) উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক জি.এম রবীন মোস্তাজী ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, দেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতার লক্ষ্যে কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক অথবা সহকারী শিক্ষক অনিয়ম ও দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও,জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )