
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ইচলী বাঘের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত বিদ্যুতের মিটার থেকে প্রধান শিক্ষক নিজ ভাতিজা রফিক মিয়ার দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত মিটার থেকে গোপনে এই সংযোগ দেয়ার কারণে যেমন সরকারের টাকা অপচয় হচ্ছে,বিপরীতে পকেট ভারী হচ্ছে প্রধান শিক্ষক ও তার ভাতিজার। এ ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনোয়ারুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ কনেছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় এর পিছনের ওয়াল ছিদ্র করে স্কুলের ভিতরে বিদ্যুতের মিটারে সংযোগ দিয়ে দোকানে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে রফিক মিয়া। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রফিক মিয়া অভিযোগ স্বীকার বলেন, আমার বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমি স্কুল থেকে চাচাকে বলে সংযোগ নিয়েছি এখন আমি পল্লী বিদ্যুৎ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছি যখন বিদ্যুৎ থাকেনা তখন আমি স্কুলের ওয়াবদা লাইনের মিটার থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। কত দিন থেকে বিদ্যুৎ চালাচ্ছেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই থেকে আড়াই বছর এভাবে চলছে। দোকানে ডিপ ফ্রিজ, ফ্রিজ, ফ্যান সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার ভাতিজা রফিক দোকান দেওয়ার পরে পল্লী বিদ্যুতের লাইন ছিল না এজন্য আমি স্কুলের মিটার থেকে সংযোগ দিয়েছি কোন টাকা পয়সা নিচ্ছি না। এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনা বিরাজমান। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে পারে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল সরকারকেই পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশে প্রধান শিক্ষকের বাড়ি হওয়ার কারণে তিনি দাপটের সাথে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছে স্কুলের পরিবেশ ও অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষককে অন্যত্রে বদলি করা একান্ত প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা মনে করেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাগমা সিলভিয়া খান বলেন, এবিষয়ে এখনো অভিযোগ পাইনি। তদন্তে সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান বৃধা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
Related