1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৭ মে, ২০২৫
  • ৪৭৬ জন দেখেছেন

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় এক জামায়াত নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের নাম ভাঙ্গিয়ে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘুষকান্ডের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। কল রেকর্ডে বলা হয়…..
‘এসিল্যান্ড ২ লাখের কমে মানবে না, মানছে না। যা করার আজ রাতের মধ্যে কর, নইলে কালকে মামলা হবে।’ -এভাবেই মোবাইল ফোনে এসিল্যান্ডের নাম করে আটককৃত ভেক্যু (স্কেবেটর) ও ট্রাক্টর ছেড়ে দিতে ২ লাখ টাকা দাবি করেছেন মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।

এমন একটি অডিও রেকর্ড গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আসলে বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে একটি ভেক্যু (স্কেবেটর) ও ট্রাক্টর জব্দ করেছিলেন, সেটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মিঠাপুকুর এসিল্যান্ড এ বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে জানা গেছে। এসিল্যান্ড কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই জামায়াত নেতা ও চেয়ারম্যানের সুপারিশে মুচলেকা নিয়ে ভেক্যু ও ট্রাক্টর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কোন জরিমানা বা কোন প্রকার টাকা আদায় করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে অভিযান করে উপজেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে চলতি মে মাসের ২ তারিখে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকার বাচ্চা মিয়ার পুকুর খননকালে সেখানে অভিযান করা হয়। অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুলতামিস বিল্লাহ একটি ভেক্যু (স্কেবেটর) ও ট্রাক্টর আটক করেন। এসময় ঘটনাস্থলে কেউ ছিলেন না। একারণে জেল-জরিমানা করা হয়নি। পরে আটককৃত ভেক্যু ও ট্রাক্টর ঘটনাস্থলে রেখে ব্যাটারি খুলে চেয়ারম্যান ও জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলামের জিম্মায় দেওয়া হয়। এরপর হতে ভেক্যু ও ট্রাক্টর উদ্ধার করতে লবিং গ্রুপিং শুরু হয়। ভেক্যু ভাড়াটিয়া জুয়েল মিয়ার নিকট ২ লাখ টাকা দাবি করেন মিঠাপুকুর জামায়াতের সেক্রেটারি ও মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম। পরে দাবিকৃত টাকা দিয়ে ভেক্যু ও ট্রাক্টর উদ্ধার করা হয়েছে।

ভেক্যু ভাড়াটিয়া জুয়েল মিয়া বলেন, এসিল্যান্ড ভেক্যু ও ট্রাক্টর আটকের সময় আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম না। একারণে জরিমানা হয়নি। চেয়ারম্যানের জিম্মায় ব্যাটারি খুলে দিয়েছিল এসিল্যান্ড। ভেক্যু ছেড়ে দিতে চেয়ারম্যান আমার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে ২ লাখ টাকাই দেওয়া হয়েছে। ৫ হাজার টাকা কম দিতে চেয়েছিলাম, তিনি এক টাকাও কম নেননি। তিনি আরও বলেন, এরপর চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল নামে একজন মাটি ব্যবসায়ীকে ভেক্যুর মালিক সাজিয়ে মুচলেকা দিয়ে এসিল্যান্ড অফিস হতে ভেক্যুটি উদ্ধার করেন। আমি ভেক্যু বুঝে পেয়ে মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছি।

মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের সঙ্গে ৩ দিন ধরে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল ধরেনি। পরে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও তিনি দেখা করেননি।

মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুলতাসিম বিল্লাহ বলেন, সেখানে অভিযান পরিচালনা করে কোন জরিমানা করা হয়নি। চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের জিম্মায় রেখে আসা হয়েছিল। পরে চেয়ারম্যানের সুপারিশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার নাম করে কেউ টাকা গ্রহণ করলে, সেটির দায়ভার তিনিই বহন করবেন। আমি জিম্মায় দিয়ে দিয়েছি, আমি দায়মুক্ত।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )