জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের ছেলেদের মধ্যে বসত বাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে শুক্রবার বিকালে বড়ভাই মাহাবুর রহমানের ভাড়াটে লোকজন এবং দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ছোটভাই মফিজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় ধারালো রাম দায়ের কোপে মফিজুল ইসলাম (৪৫) তার স্ত্রী রেহেনা বেগম (৩৫) ও ভাবি হালিমা বেগম (৫০) গুরুতর আহত হন। আহতদের চিৎকার চেঁচামেচিতে এলাকার লোকজন ছুটে এসে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করান।
এদিকে আপন ভাই ও তার স্ত্রী সন্তানদের উপর ভাড়াটে লোকজন দিয়ে হামলা করার কারনে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন । একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা মাহাবুর রহমানসহ ৪ জনকে আটক করে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। অবস্থা বেগতিক দেখে অন্য ভাড়াটেরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা বিভাগ (৯৯৯) থেকে খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানার পুলিশ অবরুদ্ধদের উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে গেলে জনতার সাথে পুলিশ সদস্যদের বাকবিতন্ডতা হয়। স্থানীয় শত শত জনতা অবরুদ্ধদের উদ্ধারের লিখিত কাগজ ও ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রের তালিকা চেয়ে পুলিশের সাথে তর্কবিতর্ক করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে হামলাকারী অবরুদ্ধদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মাহাবুর রহমান (৪৫) মারুফ রহমান (২০) বিলকিছ বেগম (৩৫) মুকুল মিয়া (২০)।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (নাগেশ্বরী সার্কেল) মোজাম্মেল হক স্যারসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এব্যাপারে রাতেই গ্রেপ্তারকৃতদের নামসহ ৭ অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার কুড়িগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়েছে।