স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণ কাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। ইট ভাঙা ও নিম্নমানের, বালির পরিমাণ বেশি, সিমেন্ট দেওয়া হয়েছে তুলনামূলক কম। শর্ত অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে এখন থেকেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দরপত্রের মাধ্যমে ৮২ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৭ টাকায় উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের ললিতারহাট থেকে বোছার বাজার পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮৯০ মিটার রাস্তা সংস্কার, সলিং, কার্পেটিং এবং পাশ দিয়ে বৃষ্টির পানি ও ভাঙন ঠেকাতে গাইড ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেষ পর্যায়ে চলছে কাজ। গাইড ওয়ালে ভাঙা ইট, বেশি বালু ও কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু জায়গায় পুরনো ভাঙা পিলার বসিয়েও গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলীর প্রতিনিধি আহসান হাবীব, কিন্তু তাঁর সামনেই নিম্নমানের কাজ চলতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “কাজের মান একেবারেই খারাপ। বারবার বললেও শোনেনি কেউ, উল্টো হুমকি দিয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার অফিসের লোকজনও দেখে চুপ থেকেছে। এই কাজ কয়েক মাসও টিকবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আহসান হাবীব সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “সবসময় ভালোভাবে করার জন্য বলা হয়, আর কিছু বলতে পারবো না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিয়াম অ্যান্ড সাজ্জাদ ট্রেডার্স-এর প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম দাবি করেন, কাজ ভালোই হচ্ছে। কোনো অভিযোগ থাকলে ঠিকাদারের সাথে সরাসরি কথা বলুন।
প্রতিষ্ঠানের মালিক শাহাদত হোসেন বলেন, নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে। খারাপ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, স্থানীয়রা কাজ বুঝে নেবেন।
এদিকে সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম রিফাত বলেন, কাজ দেখতে কয়েকবার গিয়েছিলাম। কিছু জায়গায় মান ঠিক ছিল না, কয়েকটা পিলার সহজেই ভেঙে যাচ্ছিল-এসব রিজেক্ট করেছি। পুরোনো পিলার ব্যবহার করার নিয়ম নেই, রেজিংয়ে যেসব পুরাতন ইট ব্যবহার হয়েছিল সেগুলো সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উত্তম কুমার দাশ জানান, কাজের মান ঠিক না হলে অবশিষ্ট বিল দেওয়া হবে না। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।