ঘড়ির কাটা ঠিক সকাল সাড়ে পাঁচটায় ঘরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় এই ম্যারাথন দৌঁড়। কাউন্টডাউনের মাধ্যমে ম্যারাথন দৌঁড় প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা করেন রেস মার্শাল আমানুল হক আমান। এর আগে বেলুন উড়িয়ে ম্যারাথন দৌঁড় প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করা হয়।
এ ম্যারাথন দৌঁড় প্রতিযোগিতা সৈয়দপুরের পার্শবতী দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর থেকে শুরু হয়ে কৈপুলকি পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় সোনাপুকুরে এসে শেষ হয়। ২১ দশমকি ১ কিলোমিটার, ১০ কিলোমিটার , ৫ কিলোমিটার ও এক কিলোমিটার এই চারটি ধাপ এ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়।
এ দৌঁড়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে আগত সহ¯্রাধিক নানা বয়সী ও পেশার নারী- পুরুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহনকারীরা সকলেই কয়েক রঙের ও ডিজাইনের টি-শার্ট পরিধান করেন। আর অতিথি ও স্বেচ্ছাসেবীদের পরণে ছিল আলাদা আলাদা টি-শার্ট। ফলে গ্রামীণ রাস্তায় দৌঁড়বিদদের সরব উপস্থিতি এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করে। আর এ দৌঁড় প্রতিযোগিতা স্বচক্ষে দেখতে এলাকার সব বয়সী মানুষজন বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময় তাঁরা হাত উঁচিয়ে করতালি দিয়ে ও ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে অংশ গ্রহনকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ- আনন্দ যোগান। ম্যারাথন দৌঁড়ে অংশগ্রহনকারীদের জন্য কিছু দূর পর পরই কয়েকটি পয়েন্টে খাবার ঠান্ডা পানি, লেবু, কমলা, জুস, কলা, খেঁজুর, চকলেটসহ অন্যান্য হালকা খাদ্য সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। আর এতে সার্বিক সহযোগিতায় নিয়োজিত ছিল প্রায় চার শত স্বেচ্ছাসেবী। এছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তায় ছিল পার্বতীপুর থানা ও বেলাইচন্ডী ইউনিয়ন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। নর্দান হাব ম্যারাথন দৌঁড়ে ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সর্বোচ্চ সময় নির্ধারিত ছিল ১০০ মিনিট। তবে অংশগ্রহনকারীদের হাব ম্যারাথন দৌঁড়ে সর্বনি¤œ এক ঘন্টা ২২ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড এবং সর্বোচ্চ তিন ঘন্টা ৫০ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড সময় লেগেছে বলে আয়োজন সংগঠন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজক সংগঠন সৈয়দপুর রানার্স এর পক্ষ থেকে অংশগ্রহনকারীদের মেডেল প্রদান করা হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ও আয়োজক সংগঠন সৈয়দপুর রানার্স এর কর্ণধার সৈয়দপুর এর বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মো. কামরুল হাসান সোহেল নিজ হাতে ম্যারাথন দৌঁড়ে অংশগ্রহনকারীদের হাতে মেডেল তুলে দেন। ম্যারাথন দৌঁড়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মির্জা আরিফ বেগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মর্তুজা-আল- মঈদ, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেন, সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল ওয়াদুদ, আয়রনম্যান হিসেবে খ্যাত ইমতিয়াজ এলাহীসহ অন্যান্য অতিথি,সাংবাদিক,সুধীজনরা অংশ নেন।
নর্দান হাব ম্যারাথন দৌঁড় প্রতিযোগিতার আয়োজক তথা আয়োজক সংগঠন সৈয়দপুর রানার্স এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক সৈয়দপুর এর বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মো. কামরুল হাসান সোহেল জানান, স্বাস্থ্যই মানুষের সকল সুখের মূল। প্রতিটি মানুষের শরীর সুস্থ ও সবল রাখার জন্য নিয়মিত দৌঁড় কিংবা হাঁটাচলা করা অপরিহার্য। এটি একটি বড় মহৌষধও বটে।
আমাদের শরীর ঠিক রাখতে দৌঁড় কিংবা হাঁটাচলার কোন বিকল্প নেই। তাই দৌঁড় কিংবা হাঁটাচলায় সব বয়সী মানুষকে আগ্রহী ও উৎসাহ যোগাতে আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস তথা আয়োজন। তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতায় সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফলভাবে আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
নর্দান হাব ম্যারাথন দৌঁড় প্রতিযোগিতা নিয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম তাঁর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অসাধারণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ ম্যারাথন দৌঁড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ দেশের দুর দূরান্ত থেকে এসে যারা ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন, তারা স্মৃতিতে অনেক আনন্দ নিয়ে বাসায় ফিরে যাবেন। খেলাধুলা সুষ্ঠু জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সকলকে নিয়মিত খেলাধুলা করার আহবান জানান তিনি। সেই সঙ্গে তাদের ছেলে মেয়েদেরও লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘন্টা করে খেলাধুলা করার পরামর্শ দেন তিনি।