


আগাম গাছে গাছে আমের মুকুল উঁকি দিচ্ছে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় আমের মুকুলের সুগন্ধ ছড়াচ্ছে। পার্বতীপুর উপজেলায় আম বাগান, প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনা ও রাস্তার ধারে আম গাছে মুকুল প্রকৃতিকে সাজিয়েছে এক অপরুপ সাজে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে বাগানের আম গাছগুলো।
তবে, বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। গাছে গাছে আমের মুকুল দেখা যাওয়ায় মালিকদের মধ্যে আনন্দ লক্ষ্য করা যায়। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। মুকুলের মৌ, মৌ গন্ধে বাগান মালিকরা দেখছেন আর্থিক লাভের স্বপ্ন। বাড়ীর আঙ্গিনা, রাস্তা ও আম বাগান গুলোতে গৌড়মতি, হাড়িভাঙ্গা, মিশরি দানা, আম্রপালি, অ্যাংগো ব্যানেনা, খিরসাপাত, গোপালভোগ, ফজলি, বারি অন্যতম আম গাছ।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ও বাগান মালিকদের রামপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের সাগর মিয়া, সোহেল মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশির ভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। এক মাস আগে থেকে আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বসিরবানিয়া বড় মেড়েয়াপাড়া গ্রামের ‘দিনাজপুর আম বাগান’-এর মালিক আবু রেজা প্রামানিক জানান, আমার বাগানে প্রায় তিন হাজার আমের গাছ রয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই বাগানে আম গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিচ্ছেন মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে।
পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রাজিব হুসাইন বলেন, এবার আম গাছে আগাম মুকুল এসেছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। এসময় আম গাছে সেচ প্রদান থেকে বিরত থাকতে। সেচ দিলে গাছে নতুন পাতা বা কুশি গজাবে। মুকুল আসা গাছে প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ করবে। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবার আমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।