
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড়-১ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান। ২৪ ঘন্টার মধ্যে নোটিশের জবাব চাওয়া হলে রবিবার সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত জবাব দাখিল করেছেন সারজিস আলম ও বিকেলে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট মুহম্মদ নওফল আরশাদ জমির।
রবিবার সকালে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইন, নায়েবে আমির মাওলানা মফিজ উদ্দিনকে সাথে নিয়ে স্বশরীরে শোকজের জবাব দিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হন সারজিস আলম।
শোকজের জবাবে তিনি লিখেন, গত ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভাটি ছিল একটি একাধিক রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটের যৌগ উদ্যোগে আয়োজিত জনসভা। জনসভাকে কেন্দ্র করে যে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, তা মূলত স্থানীয় সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে স্থাপিত হয়। এসব কার্যক্রম আমার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা বা অনুমোদনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়নি। তদুপরি, আচরণ বিধিমালার বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যানার ও প্রচারসামগ্রী অপসারণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কাজ না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা হয়েছে।
এছাড়া, জনসভাস্থলে যে সাময়িক গেইট/তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিল, তা ছিল আয়োজক কমিটি ও সমর্থকদের উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে নির্মিত একটি প্রবেশপথ, যা স্থায়ী অবকাঠামোর আওতাভুক্ত নয়। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশনায় সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে, এমন নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো তোরণ না গেইট নির্মাণ না করার জন্য কঠোয় নির্দেশনা প্রদান করেছি।
আমার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) আইডি ব্যবহারের বিষয়টি অনিচ্ছাকৃতভাবে রিটার্নিং অফিসারের নিকট পূর্বে দাখিল করা হয়নি মর্মে সারজিস তার জবাবে বলেন, এতে কোনো প্রকার বিধি লঙ্গনের উদ্দেশ্য বা অসৎ মানসিকতা ছিল না। বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যা দাখিলের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে এবং নোটিশ জবাবের সাথে সংযুক্তি করা হলো। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে আমি আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। উপর্যুক্ত আইনগত ও বাস্তব ব্যাখ্যার আলোকে আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য আপনার সদয় বিবেচনা কামনা করছি।
এদিকে জবাব দাখিলের পর রবিবার বিকেলে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট নওফল আরশাদ জমির। এসময় লিখিত বক্তব্যে বিএনপির প্রার্থীর এজেন্ট- ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর নানা আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের কথা উল্লেখ করেন। একই সাথে নোটিশে উল্লেখিত অভিযোগ ভুল বোঝাবুঝি ও অসম্পূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, যে ফেস্টুনের কথা বলা হয়েছে তা মুলত ব্যানার। এগুলো আইন মেনে টানানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের ব্যানারের নিচে ১০ দলীয় জোটের রঙ্গিন ব্যানার ছিল। আমাদের নেতাকর্মীরা আইন সবার জন্য সমান দাবি করে সবার ব্যানার অপসারণের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তিনি অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতির জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সাথে ভুল বুঝাবুঝিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।
Related