শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনায় অকালে প্রাণ হারানো মাদরাসা ছাত্রীর নাম সুবর্ণা খাতুন (১৫)। নিহত সুবর্ণা খাতুন উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের জারুল্লাপুর গ্রামের বকুল মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পারিবারিক সমস্যাজনিত কারণে সুবর্ণা নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন।
নিহতের পারিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলের দিকে মাদরাসা শিক্ষার্থী সুবর্ণা ৩ জন নিকট আত্বীয়সহ বাড়ি থেকে বের হয়ে জারুল্লাপুর এলাকার ‘বড়পুকুর’ নামক একটি জলাশয়ে থাকা নৌকায় উঠেন। নৌকাটি জলাশয়ের মধ্যবর্তী স্থানে গেলে সুবর্ণা তখন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ ও সেলফি তোলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে হঠাৎ সে ভারসাম্য হারিয়ে নৌকা থেকে জলাশয়ে পড়ে গেলে, সাথে থাকা নিকট আত্বীয়রা কোনকিছু বুঝে উঠার আগেই সুবর্ণা গভীর পানিতে তলিয়ে যান। পরে নৌকায় থাকা আত্বীয় এবং স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে মিঠাপুকুর ও রংপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ৮ জন ডুবুরির একটি দল জলাশয়ে তল্লাশি চালিয়ে বিকেল সাড়ে ৮টার দিকে সুবর্ণার নিথর দেহ উদ্ধার করেন। উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেন ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. মশিউর রহমান।মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান জানান, খোড়াগাছ ইউনিয়নে মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোন আপত্তি না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।