
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ১নং নাফানগর ইউনিয়নের বড় সুলতানপুর গ্রামের ছোট একটি টিনের আবাসনে বসবাস করছেন ৭৩ বছর বয়সী রিয়াজ উদ্দীন। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও থেমে নেই তার একাকী সংগ্রাম। পাশে আছেন ৭০ বছর বয়সী স্ত্রী আরজিনা, যিনি ঘরোয়া কাজ ও সংসার সামলান। তবে জীবিকার দায় একাই বহন করছেন রিয়াজ উদ্দীন।
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে দেখা যায়, তিনি উপজেলা ২নং ইশানিয়া ইউনিয়নের মুরারীপুর বাজারের ঝোপঝাড় ঘুরে আনাজি ও কালো কচু সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত। প্রতিদিন ভোরের ফজরের নামাজের পর তিনি বের হন গ্রামে, নদীর পাড় এবং ঝোপঝাড় ঘুরে কচু সংগ্রহ করতে। বিক্রি করে যা আয় হয়, সেটাই চলে সংসার। এই একাকী পরিশ্রমে প্রতিদিনের জীবন জড়িয়ে থাকে ধৈর্য, শ্রম এবং মর্যাদার গল্পে।
রিয়াজ উদ্দীন বলেন, ভোরে নামাজ পড়ে বের হই। সারাদিন কচু সংগ্রহ করি। বিক্রি করলে ৩৫০–৪০০ টাকা পাই। এই দিয়েই চলে আমাদের সংসার।
বাঁশঝাড় আর নদীর তীরের দুর্গম পথ। শীত, গরম বা বর্ষা—কোনো মৌসুমেই ছাড় দেন না। প্রতিটি কচুর গাছ সংগ্রহে লাগে শ্রম, সময় এবং সতর্কতার নিখুঁত হিসাব। একাই এই যাত্রা—কেউ সাহায্য করেন না।গ্রামের মানুষদের চোখে রিয়াজ উদ্দীন নীরব যোদ্ধা। বয়স তার সীমাবদ্ধতা, কিন্তু মনোবল ও পরিশ্রমের আগুন এখনও জ্বলছে। তার একাকী সংগ্রাম শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি গ্রামীণ জীবনের জীবন্ত ছবি, যেখানে প্রতিটি শ্রমিকের মর্যাদা ফুটে ওঠে।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও রিয়াজ উদ্দীনের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবন চলতে থাকে আশায়, পরিশ্রমে এবং আত্মসম্মানে। তার একাকী সংগ্রাম আমাদের শেখায়, মানুষের নীরব শক্তি কখনো ক্ষয় হয় না।
Related