


নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ধোলাই ষ্টেশনারী ও খাদ্য সরবরাহ সংক্রান্ত টেন্ডার না পাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন দেব এর কার্যালয়ে মেধা টেড্রার্সের প্রোপাইটর আলমাস সহ উপজেলা যুবদলের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাছানুরের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে টেবিল থাপ্পড়িয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের মাধ্যমে মব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সৃষ্টি করেন।
জানা যায়, ধোলাই ষ্টেশনারী ও খাদ্য সরবরাহ সংক্রান্ত টেন্ডার হয়। সেই টেন্ডারে দরদাতা হিসেবে ১০ জন অংশগ্রহণ করেন। তারমধ্যে বাধন ট্রেডার্স ১ম দরদাতা হওয়ায় তাদের নামে ওয়ার্ক অর্ডার প্রস্তুত হওয়ার খবরে গত মঙ্গলবার ১১ ঘটিকায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে ঐ যুবদল নেতার নেতৃত্বে মব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়।
গতকাল বুধবার সকাল ১১ ঘটিকায় হাসপাতাল প্রাঙ্গনে ঐ মব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে হাসপাতালের সমস্ত সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে সকল ডা. নার্স ও কর্মচারীরা মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেন। এসময় বক্তাব্য রাখেন ডেন্টাল ডা. মো. গোলাম মাওলা তিনি বলেন অতীতে ও তারা আমাদের আউটডোরে ফার্মেসিতে হুমকি ধামকি সহ গালিগালাজ করে ক্ষান্ত হয় নাই শেষ পর্যন্ত আমাদের কর্মকর্তা নীল রতন দেব এর সহিত যে মব সন্ত্রাসী ও হামলার সৃষ্টি করেছেন এর প্রতিবাদে আজকে আমারা কর্ম বিরতি রেখে মানববন্ধনের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দ্রুত গতিতে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। অন্যথায় আজ থেকে আমরা আরও কঠোরতম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।
আরও বক্তব্য রাখেন অত্র হাসপাতালের ক্যাশিয়ার বুলবুল আহম্মেদ তিনি বলেন, পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আমাদের স্যারের উপর এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মব সৃষ্টি করেন নিয়ম মাফিক টেন্ডার প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হয়েছে। এখন সরকারি দলের লোক হওয়ায় তাদের দাবি আমরা স্থানীয় লোক অতো নিয়ম বাদ দেন, টেন্ডারের কার্যক্রম স্থগিত করে আমাদের নামে ওয়ার্ক অর্ডার দেন।
না দিলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ভয়ভীতি সহ টেবিল থাপ্পড়া- থাপ্পড়ী সহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমরা আজকে বাধ্য হয়ে এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কর্মবিরতিসহ মানববন্ধন করলাম। ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যাবস্থা না নিলে আমরা একেবারেই কর্মবিরতি করবো। উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন দেব এর সহিত কথা হলে তিনি জানান অনলাইনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হয়েছে কিন্তু দলীয় প্রভাবে আমার সাথে কার্যালয়ের ভিতরে সন্ত্রাসী কায়দায় মব সৃষ্টি করেছিল তার প্রমাণ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। আমি ভবিষ্যত নিরাপত্তার কারণে থানায় একটি জিডি করেছি। এবিষয়ে ঐ যুবদল নেতা হাছানুরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান ঐ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে।
উপজেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক আব্দুস সালামের সাথে কথা হলে তিনি জানান সরকারি অফিসের ভিতরে এরকম কর্মকাণ্ড কোনভাবেই শোভনীয় নয় যদি এরকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে তাহলে এর দায়ভার সেই ব্যাক্তিকেই নিতে হবে।
তবে প্রমানিত হলে দল তার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিবে। অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফর রহমান বলেন এবিষয়ে একটি জিডি হয়েছে ২-৩ জনের নাম উল্লেখ করে। তবে এর সাথে আরও ১০-১২ জন জড়িত ছিল।