


যে সন্তানদের হাত ধরে একদিন জীবনযুদ্ধের পথ চলা শিখিয়েছিলেন। বার্ধক্যের শেষ বয়সে ঠিক সেই সন্তানদের হাতেই নির্যাতনের শিকার হলেন এক অসহায় বৃদ্ধ বাবা। কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার রামদাস ধনিরাম খেওয়ারপাড় এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। যা নাড়া দিয়েছে পুরো এলাকাকে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাবা আজাহারুল ইসলাম (৬৩) থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে তিনি জানান, তার দুই ছেলে- আল ইমরান (৩৮) ও আবু হুরায়রা (৩৫)। দীর্ঘদিন ধরে তার নামে থাকা জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু জীবনের শেষ সম্বল ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায়, সন্তানের ভালোবাসার জায়গায় নেমে আসে হুমকি আর ভয়ভীতি ও নির্যাতন। বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা তাতে উপস্থিত হননি।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৮ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়িতে দুই ছেলে (ইমরান ও হুরায়রা) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তিনি বাধা দিলে তারা ইট ও লাঠি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে আল ইমরান লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তা প্রতিরোধ করতে গেলে তার ডান হাত ধরে মোচড় দিয়ে কবজির জয়েন্ট সড়িয়ে গুরুতর জখম করা হয়। অপর ছেলে আবু হুরায়রা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করার জন্য উদ্যত হলে বড় ছেলে রেজওয়ানুল ইসলাম ছুটে এসে বাবাকে রক্ষা করেন।
কিন্তু সেখানেই থামেনি নির্যাতন। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে রেজওয়ানুল ইসলামও কিল-ঘুষিতে আহত হন। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বাবা আজাহারুল ইসলামকে একটি ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ভুক্তভোগী বাবা আজাহারুল ইসলামের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে তাকে উদ্ধার করে উলিপুর হাসপাতালে ভর্তি করান।
ভুক্তভোগীর বড় ছেলে রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, আমার বাবার কাছে আমার ছোট দুই ভাই জমি লিখে চায়। জমি লিখে না দেওয়ায় তারা বাবার ওপর নির্যাতন করে। এলাকাবাসী আপোষ মিমাংসার জন্য ডাকলেও তারা হাজির হয় না। এ ঘটনায় বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছেলে আল ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, এলাকাবাসীসহ ওই বৃদ্ধা থানায় এসেছিলেন। একটি অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।