


পড়া দিতে মুখস্থ না পারার অভিযোগে একটি কওমী মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করাসহ অমানবিক নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে শিশুটিকে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষক নাজমুল হক ওই মাদ্রাসার পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থী সোহাইবুর রহমান (১০) নামে ওই শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের পর সারাদিন একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
পরে মাগরিবের নামাজের সময় ওই শিক্ষার্থী পালিয়ে মাদ্রাসা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরে নিজ বাড়ী রংপুরের বদরগঞ্জে ফিরে আসে। শিশুকে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রংপুর মহানগরীর মডার্ন বারোআউলিয়া নামক মাদ্রাসায়। ওই শিক্ষার্থী রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা দামোদরপুর ইউনিয়নের শেখেরহাট মাটিয়াপাড়ার নাজিমুল ইসলামের পুত্র।
অভিযোগ সুত্রে,গত এক বছর আগে সোহাইবুর রহমানকে বারোআউলিয়া কওমী মাদ্রসায় ভর্তি করা হয়। ঘটনার দিন গত শনিবার সকালের দিকে পূর্ব নির্ধারিত পড়া দিতে না পারায় অভিযোগে বাশের তৈরি বেতের লাঠি দিয়ে শিশুটিকে অকথ্য নির্যাতন চালান ওই মাদ্রাসার পাষণ্ড শিক্ষক নাজমুল হুদা। শিশুটি শিক্ষকের হাত-পা জড়িয়ে ধরলেও তাকে বেদম পিটিয়ে জখম করা হয়। শিশুটির সারা শরীর জুড়ে আঘাতের চিহৃ দেখা গেছে।
গত শনিবার মধ্য রাতে খবর পেয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটিকে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আঘাতের যন্ত্রণায় শিশুটি ছটফট করছিল।
শিশুটি বলেন, নাজমু হুজুর আমাদের সামান্য দোষ পাইলেই মার ডাং শুরু করে দেয়। আমি পড়া দিতে না পারার কারণে আমার দুই হাত ধরে বেতের লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। অনুরোধ করলে মাইর দেওয়া বেশি করেন। শেষে আমাকে একটি রুমে বন্ধ করে রাখে। পরে মাগরিবের নামাজের সময় রুম খুলে দিলে আমি রিকশাভ্যানে করে পালিয়ে বাড়ি চলে আসি।
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শয়ন মিয়া বলেন, শিশুটির সারা শরীর জুড়ে আঘাতে চিহৃ পাওয়া গেছে। যদিও সকালে পেটানো হয়েছে। রাতেও তার শরীরে অসংখ্য ক্ষত চিহৃ আছে। ওর সেরে উঠতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। শিশুটি বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছে বলে জানান তিনি।
মাদ্রাসার মোহতারিম নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি প্রথমে আমার জানা ছিল না। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিশুটিতে মাদ্রাসায় না পেয়ে তার খোঁজে গ্রামের বাড়িতে যাই। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।