1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
সতর্ক অভিভাবকরাই সন্তানদের সাইবার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করছেন: গবেষণা | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন

সতর্ক অভিভাবকরাই সন্তানদের সাইবার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করছেন: গবেষণা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ১৫ জন দেখেছেন

সন্তানদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিতে আত্মবিশ্বাসী অভিভাবকেরাই বেশি কার্যকর, এমন তথ্য উঠে এসেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ও সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির এক যৌথ গবেষণায়। ডিজিটাল যুগে অনেক অভিভাবকই ‘শেয়ারেন্টিং’ বা সন্তানের ছবি ও তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। তবে এই অভ্যাস শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যাসপারস্কি ও সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি পরিচালিত ‘স্মল শেয়ারস, বিগ রিস্ক: হাও প্যারেন্টস অ্যাসেস থ্রেটস অ্যান্ড কোপ উইথ শেয়ারিং অফ চিলড্রেন ডাটা’ নামক এই যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অভিভাবক নিজেদের সিদ্ধান্তে আত্মবিশ্বাসী, তারা সন্তানের তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক থাকেন। তারা সাধারণত সংবেদনশীল তথ্য এড়িয়ে চলেন, পরিচিত মানুষের মধ্যেই শেয়ার সীমিত রাখেন এবং অপ্রয়োজনীয় শেয়ারিং কমানোর চেষ্টা করেন। এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ১৫২ জন অভিভাবকের মতামতের ভিত্তিতে এই গবেষণা পরিচালিত হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে ‘কপিং অ্যাপ্রেইজাল’ বা ঝুঁকি মোকাবিলার মানসিক প্রস্তুতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিভাবক নিজের সক্ষমতার ওপর যত বেশি আস্থা রাখেন, তিনি বেশি সতর্ক থাকেন। শতকরা ৮৫ শতাংশ অভিভাবক সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকেন, ৮৪ শতাংশ অভিভাবক কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে পারেন এবং অতিরিক্ত শেয়ারিং নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অনেকে প্রযুক্তিগত দিক থেকেও সতর্কতা নিচ্ছেন। যেমন, ৮০ শতাংশ অভিভাবক কনটেন্ট পুনরায় শেয়ার করার অপশন বন্ধ রাখেন এবং ৭৮ শতাংশ ছবির অতিরিক্ত তথ্য বা মেটাডাটা মুছে ফেলেন। যেসব অভিভাবক এসব পদক্ষেপকে কার্যকর মনে করেন, তারা নিয়মিতই এসব ব্যবস্থা অনুসরণ করেন। গবেষণায়, অভিভাবকদের বয়স ও লিঙ্গভেদে আচরণে কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকেরা আরও সচেতন হন। একইভাবে মায়েদের মধ্যে সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

গবেষক অক্টাভিয়ানো এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অভিভাবকেরা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং ঝুঁকি বুঝতে সক্ষম হন। ফলে তারা আরও সচেতনভাবে পদক্ষেপ নেন। আর মায়েদের ক্ষেত্রে সন্তানকে সুরক্ষিত রাখার প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই বেশি, যা ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তবে বয়স বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার জন্য নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা ও মিডিয়া সচেতনতা জরুরি বলে আমি মনে করি। গবেষণার সহ-লেখক সহকারী অধ্যাপক জি বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে পরিবারের মুহূর্ত শেয়ার করা একদিকে যেমন সংযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে শিশুদের অজান্তেই বিভিন্ন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে যেমন- প্রোফাইলিং, অনাকাঙ্ক্ষিত ট্র্যাকিং বা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার। আমরা দেখেছি, অভিভাবকেরা যখন নিজেদের সক্ষমতার ওপর আত্মবিশ্বাসী হন এবং পদক্ষেপগুলো কার্যকর বলে মনে করেন, তখন তারা সন্তানের গোপনীয়তা রক্ষায় আরও সক্রিয় হন। তাই এখনই সামাজিক মাধ্যমের প্রাইভেসি সেটিংস দেখে নেওয়া এবং অনলাইনে কী শেয়ার করা উচিত, আর কী নয়— এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে আলোচনা করা জরুরি।’

গবেষণা সম্পর্কে: এই গবেষণার জন্য ক্যাসপারস্কি মিসর, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম থেকে মোট ১৫২টি অনলাইন মতামত সংগ্রহ করেছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য সরাসরি আয়োজিত সাইবার রেজিলিয়েন্স কর্মশালায় কিউআর কোডের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। এছাড়া ক্যাসপারস্কি একাডেমির সঙ্গে যুক্ত অভিভাবক ও শিক্ষকদের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সহায়তায়ও এই জরিপ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সামাজিক মাধ্যমেও প্রশ্নপত্রটি শেয়ার করা হয়েছিল। প্রশ্নপত্রটি আরবি, বাহাসা ইন্দোনেশিয়া, ক্যান্টনিজ ও ভিয়েতনামি ভাষায় অনুবাদ করা হয়, যাতে অংশগ্রহণকারীরা সহজে মতামত দিতে পারেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাস ধরে এই জরিপ চালানো হয়।

এতে ০ থেকে ১২ বছর বয়সী সন্তানের অভিভাবকেরা অংশ নেন। জরিপে অভিভাবকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা কেন সন্তানদের তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন, অনলাইন গোপনীয়তা নিয়ে তাদের ধারণা কী, গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে তারা কতটা সচেতন এবং নিজেদের ও সন্তানের তথ্য সুরক্ষায় তারা কতটা আত্মবিশ্বাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )