


অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী লম্বা সময় ধরে ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ত থাকতেন। বড় পর্দা আর ওটিটিতে মনোযোগী হয়ে সেই চিত্র তিনি নিজেই বদলেছেন! বর্তমান ব্যস্ততা ও জীবনের ভাবনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মীর রাকিব হাসান
২০২৬-এর পাঁচ মাস চলে গেল। এর মধ্যে কেবল ‘ক্যাকটাস’ নিয়ে দর্শকের সামনে এসেছেন। কেমন সাড়া পেলেন?
‘ক্যাকটাস’ ছিল আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। শারীরিক ও মানসিক— উভয় দিক থেকে অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। আমার অন্যরকমভাবে পর্দায় আসা দর্শক গ্রহণ করেছেন। এজন্য ভালো লেগেছে। অনেকে বলছেন, তারা আমাকে এমন চরিত্রে আগে ভাবেননি। একজন অভিনেত্রী হিসেবে এটি আমাকে তৃপ্তি দিয়েছে।
এ বছর নতুন আর কী কী কাজ আসতে পারে সামনে?
কিছু কাজ নিয়ে কথা হচ্ছে। তবে এখন খুব বুঝে-শুনে কাজ করতে চাই। শুধু কাজের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে এমন গল্পের অংশ হতে চাই, যেটি সত্যিই আমাকে আন্দোলিত করে।
একসময় ঈদ উপলক্ষে আপনার দিন-রাত ব্যস্ততা ছিল। নাটকে কাজ না করার কারণে এখন কিছুটা ফুরসত পান মনে হয়। নাটক কি মিস করেন?
নাটক অবশ্যই মিস করি। একটা সময় ঈদ মানেই ছিল টানা শুটিং, না ঘুমিয়ে কাজ করা। সব মিলিয়ে আলাদা উচ্ছ্বাস কাজ করত। সেই সময়গুলোর অনুভূতি এখনো আমার মধ্যে আছে। তবে এখন জীবনের প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গি একটু বদলেছে। এখন ব্যালান্স খুঁজতে শিখছি।
নাটকের জন্য নিশ্চয়ই এখনো প্রস্তাব আসে? নাটক কি আর কখনো করবেন?
হ্যাঁ, প্রস্তাব তো আসেই। কখনোই বলিনি যে নাটক আর করব না। যদি এমন কোনো গল্প আসে, যেটি আমাকে ভেতর থেকে নাড়া দেয়, তাহলে অবশ্যই আবার নাটকে কাজ করব।
ইদানীং পারিবারিক গল্পের নাটক দর্শকের মন জয় করছে। আপনি কি এখনকার নাটক দেখেন?
সময় পেলে দেখি। আমি মনে করি, দর্শক এখন জীবনের প্রকৃত অনুভূতি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয় এমন গল্প খুঁজছে। ছোট ছোট সম্পর্কের বুনন ও পরিবারের টানাপড়েন মানুষকে সহজে সম্পৃক্ত করতে পারছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ‘এটা আমাদেরই গল্প’।
‘সাবা’ ও ‘প্রিয় মালতী’ এখন পর্যন্ত বড় পর্দায় আপনার মুক্তিপ্রাপ্ত দুটি কাজ। দুটিই নারীকেন্দ্রিক। আপনাকে কি নারীকেন্দ্রিক গল্পই বেশি টানে, নাকি এ ধরনের গল্প বেশি আসে আপনার কাছে?
সত্যি বলতে, ভালো গল্পের প্রতিই আমি আকৃষ্ট হই। কাকতালীয়ভাবে হয়তো আমার কাছে এমন কিছু গল্প এসেছে, যেখানে নারী চরিত্রগুলো খুব শক্তভাবে লেখা ছিল। তবে ‘নারীকেন্দ্রিক’ হিসেবে আলাদা করে দেখি না। কোনো চরিত্র প্রভাব বিস্তার করতে পারবে মনে হলেই সেটি আমাকে টানে।
নাচ-গান বা পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক সিনেমা এখনো করেননি। এগুলো কি সচেতনভাবে এড়িয়ে যান?
না, এড়িয়ে যাচ্ছি না। শুধু এমন কিছু কাজ করতে চাই, যার সঙ্গে নিজের সংযোগ ঘটাতে পারি। বাণিজ্যিক ছবি মানেই শুধু নাচ আর গান, এটি বিশ্বাস করি না। ভালোভাবে বানানো হলে যেকোনো ঘরানার চলচ্চিত্রই সুন্দর হতে পারে।
বড় পর্দা নিয়ে নতুন কী ভেবেছেন?
বড় পর্দায় ধীরে হলেও অর্থবহ কাজ করতে চাই। এমন কিছু গল্পের অংশ হতে চাই, যেগুলো দর্শকের মনে থেকে যাবে অনেকদিন।
আপনার পরিবারের তিনজন এখন বিনোদন অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত। আপনার বোন মালাইকা চৌধুরী টুকটাক অভিনয় করছেন। আদনান আল রাজীব গুণী নির্মাতাদের মধ্যে অন্যতম। পরিবারে কি অভিনয় কিংবা নির্মাণ নিয়ে আলাপ হয়?
হ্যাঁ, আমাদের বাসায় কাজ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কখনো গল্প নিয়ে, কখনো চরিত্র নিয়ে, কখনোবা ফিল্মমেকিং নিয়ে আলাপ করি আমরা। সৃজনশীল যেকোনো আলোচনা সবসময় অনুপ্রেরণাদায়ক।
আদনান আল রাজীব ‘আলী’ বানিয়ে কান জয় করেছেন। তিনি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করলে যুক্ত হবেন?
কান উৎসবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আলী’র স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের দেশের জন্য গর্বের। এখন পর্যন্ত আমাদের একসঙ্গে কাজ করা হয়নি। কিন্তু ভালো গল্প আর সঠিক সময় হলে অবশ্যই তার পরিচালনায় অভিনয় করতে চাই। নির্মাতা হিসেবে তার খুব শক্তিশালী দৃষ্টিভঙ্গি আছে। মানুষ আমাকে শুধু জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন ভালো শিল্পী হিসেবে মনে রাখুক। এমন কিছু কাজ করে যেতে চাই, যেগুলোর আবেগময় গুণমান অনেক দিন ধরে টিকে থাকে।