এবার স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকেও পশু নিয়ে আসা হয়েছে ডোমারের হাটগুলোতে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু কিনতে আসছেন পাইকাররা। এতে জমে উঠেছে পুরো হাট।ডোমার উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৭৬১টি কোরবানিযোগ্য পশু। এর মধ্যে ডোমার উপজেলায় কোরবানির গরুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩১ হাজার ২৩০টি। চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় বাজারে পর্যাপ্ত পশু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
হাটে আসা বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতার উপস্থিতি বেশি। ফলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় রয়েছেন তারা।
গরু বিক্রি করতে আসা ডোমার উপজেলার খামারি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আমি তিনটি গরু নিয়ে হাটে এসেছি। সকাল থেকেই অনেক ক্রেতা দেখছি। এবার দামও মোটামুটি ভালো। আশা করছি লাভ হবে।”
দেবীগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ডোমারের হাটে প্রতি বছরই ভালো বেচাকেনা হয়। তাই দূর থেকে গরু নিয়ে এসেছি। বড় গরুর চাহিদা এবার বেশি দেখা যাচ্ছে।”
অন্যদিকে ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা সহনীয় রয়েছে। বাজেট অনুযায়ী বিভিন্ন দামের পশু পাওয়া যাচ্ছে বলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গরু কিনতে আসা ডোমার পৌর এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, “গত বছরের চেয়ে এবার দাম একটু কম মনে হচ্ছে। হাটে গরুর সংখ্যাও বেশি। তাই পছন্দমতো গরু দেখার সুযোগ পাচ্ছি।”
ঢাকা থেকে গরু কিনতে আসা পাইকার মাহবুব আলম বলেন, “ডোমারের গরু স্বাস্থ্যবান ও ভালো মানের হয়। এখানকার হাটে বড় গরু বেশি পাওয়া যায়। তাই প্রতিবছরই আমরা এখানে গরু কিনতে আসি।”
হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জাল টাকা শনাক্তকরণ টিম, পুলিশের টহল ও স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে হাটজুড়ে।
বসুনিয়া হাটের ইজারাদার মো. শাহিনুর রহমান বলেন, “প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ হাটে আসছেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি। জাল টাকা শনাক্তের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”
এদিকে হাটে অসুস্থ কিংবা ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করা পশু যাতে বিক্রি না হয়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি করছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমও কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির বলেন, “আমরা নিয়মিত পশুর হাট পরিদর্শন করছি। কোনো অসুস্থ বা ক্ষতিকর ইনজেকশন ব্যবহার করা পশু যেন হাটে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।”
কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ডোমারের পশুর হাটগুলোতে বাড়ছে বেচাকেনা। শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে আরও বেশি ক্রেতা ও পাইকার সমাগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।