


ঘরের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে অল্প জায়গার মধ্যে গাদাগাদি করে রাখা সংসারের সব জিনিসপত্র। ঘরের কোণে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে দড়ি বেঁধে ঝুলছে কাপড়চোপড়। নিরাপদভাবে বসবাসের ন্যূনতম সুযোগও নেই শিখা বেগমের পরিবারটির। রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওসমানপুর গ্রামের বাসিন্দা শিখা বেগম।
বেচে থাকার জন্য প্রতিদিনই তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়। একসময় দিনমজুর স্বামী শাহ আলম মিয়ার আয়েই চলতো ৪ সদস্যের সংসার। কয়েক বছর আগে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় দুই পা হারায় তাঁর স্বামী। তখন শিখা বেগম চারিদিকে অন্ধকার দেখতে শুরু করেন। ১০ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির পড়া মেয়ে সিনহা আক্তার ও তিন বছর বয়সী ছোট মেয়ে সামিহা আক্তারকে নিয়ে শুরু হয় টিকে থাকার লড়াই।
ভাঙ্গাচোড়া একটি ঘরে দুই মেয়ে ও স্বামীসহ বসবাস করতে হয়। তাও আবার টিনের চালায় চালুনীর মতো ফুটা। আকাশে কালো মেঘ জমলেই বুক কেঁপে ওঠে শিখা বেগমের। বৃষ্টি মানেই তার পরিবারের জন্য দুর্ভোগ। টিনের ছাউনির অসংখ্য ফুটো দিয়ে চুইয়ে-চুইয়ে পানি পড়ে। কাঁচা মেঝে কাদায় পরিণত হয়, ভিজে যায় বিছানা, কাপড়চোপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
তখন প্রতিবন্ধী স্বামী ও দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘরের এক কোণে গাদাগাদি করে বসে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। মাটির দেয়ালও ঝুঁকিপূর্ণ যেকোনও মুহূর্তে ধ্বসে পড়তে পারে। বৃষ্টি হলে টিনের চালার ফুটো দিয়ে পানি পরা ঠেকাতে বিভিন্ন জায়গায় হাঁড়ি-পাতিল বসিয়ে রাখতে হয়। তবুও ভিজে যায় বিছানা ও কাপড়।
বর্ষাকালে ঘরজুড়ে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ঘুমানোসহ দৈনন্দিন জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। শিখা বেগম বলেন, “একটা ভালো ঘর করার সামর্থ্য আমার নেই। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পরে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হয়। অনেক সময় বাচ্চাদের কোলে নিয়ে বসেই রাত কাটাতে হয়। বৃষ্টিতে বিছানা, কাপড়সহ সবকিছু ভিজে যায়।