


রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৪৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। সহকারী শিক্ষকরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার কারণে ভারপ্রাপ্তে-ভারাক্রান্ত বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। সমস্যায় জর্জরিত এসব বিদ্যালয়ে কবে গতি ফিরবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে কোমলমতি শিশুদের লেখাপড়ার মানউন্নয়নে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কার্যকরী পদক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও সচেতনমহল। প্রাপ্ত তথ্য মতে, রংপুর জেলায় ১ হাজার ৪৫৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ৬৬৯ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হওয়ায় সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
একদিকে শিক্ষক সংকট আরেকদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ। অতিরিক্ত এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। রংপুর জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষক সংকট মিঠাপুকুর উপজেলায়। মিঠাপুকুরে মোট ২৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ১৪৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০ টি, গঙ্গাচড়া ১৭৮টির মধ্যে ৬০ টি, তারাগঞ্জ ৭৫টির মধ্যে ৫৬ টি, পীরগঞ্জ ২৩৬ টির মধ্যে ১২৫ টি, পীরগাছা ১৭৮টির মধ্যে ৯৪ টি, বদরগঞ্জ ১৭৬টির মধ্যে ১১০টি এবং রংপুর সদর উপজেলার ২২২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য এসব বিদ্যালয়ে নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পাঠদানেও প্রভাব পড়ছে।
মিঠাপুকুরের শিববাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান , ২০২৫ সাল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। মিঠাপুকুরের আমাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোনরকমে চলছে বিদ্যালয়টি। নানান সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি থেকে আস্থা হারাচ্ছেন অভিভাবকরা। তবে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহিবুল হাসান -এর দাবি, প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম নির্বিঘ্নেই চলছে। এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিদ্যালয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও ইমাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে কোনো সার্কুলার নেই। এর মধ্যে অনেকে অবসরে যাওয়ায় শূন্য পদ আরও বেড়েছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহকারি শিক্ষকরা যথাযথ নির্দেশনা পাচ্ছেন না বলে মনে করেন তিনি। মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র রায় জানান, শিক্ষক জ্যেষ্ঠতা নিয়ে আদালতে একটি মামলা ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা মামলাটি বর্তমান সময়ে মন্ত্রী মহোদয় নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। মামলার কারণেই এত দিন প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। এখন শিক্ষক শূন্যতা কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা যায়।