1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
গঙ্গাচড়ায় ৪০ বছরের ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের বিপক্ষে অভিযোগ,তদন্তে নির্বাচন কমিশনের ২ কর্মকর্তা  | দৈনিক সকালের বাণী
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন

গঙ্গাচড়ায় ৪০ বছরের ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের বিপক্ষে অভিযোগ,তদন্তে নির্বাচন কমিশনের ২ কর্মকর্তা 

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৩ জন দেখেছেন
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকা স্থানীয় নির্বাচনী ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করে চিলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের ফলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।৪০ বছর  ধরে ব্যবহৃত কেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবিতে গণস্বাক্ষরসহ লিখিত আবেদন করেছেন তাঁরা। কেন্দ্র পরিবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষে স্থানীয়দের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নির্বাচন বিভাগের দুই কর্মকর্তা।
রংপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান সাউদপাড়া ও চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, দুটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
সাউদপাড়া কেন্দ্র বহালের দাবিদার স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুব হোসেন ও মোখলেসুর ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছেন। কেন্দ্র পরিবর্তন করা হলে ভোটারদের ভোগান্তি বাড়বে। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের নতুন কেন্দ্রে যাতায়াতে বিশেষ সমস্যায় পরতে হবে । তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্র পরিবর্তনের আগে স্থানীয় ভোটারদের মতামত নেওয়া হয়নি। সবার অজান্তেই ভোট কেন্দ্র স্থানান্তরের কার্যক্রম সম্পুর্ন করা হয়েছে।
এডভোকেট হাফিজুর রহমান সাউদপাড়া সপ্রবিতে ভোট সেন্টার রাখার দাবিতে বলেন,চিলাখাল সপ্রবির কোন বাউন্ডারি ওয়াল নাই, পর্যাপ্ত মাঠ নাই এবং তাদের মিথ্যা অভিযোগ  সাউদপাড়ায় মারধোর করে ভোট ছিনিয়ে নেয়া হয়, কিন্তু এই বক্তব্যের পক্ষে থানা কিংবা নির্বাচন অফিসে কোন অভিযোগ নাই। তাই মিথ্যা অভিযোগ আমলে না নিয়ে ভোট কেন্দ্রটি সাউদপাড়া সপ্রবিতে পূর্ণবহালের জোর দাবি জানাই।
কেন্দ্র পূর্ণবহালের দাবীতে তারা আরও বলেন , তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ ও যাতায়াতসুবিধা নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, সেখানে রিকশা-ভ্যান চলাচলের সুবিধা না থাকায় অনেক ভোটারকে হেঁটে যেতে হবে ।
এতে নারী ও বয়স্ক ভোটারদের দুর্ভোগ বাড়বে।বর্ষাকালে যে কোন সময় বন্যার পানিতে চিলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ডুবে যায়। ফলে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম ব্যহত হবে।
অন্যদিকে, চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, আমরা চিলাখাল, ডোগারপাড় ও জোক কামরি মিলে ১৬ ০০ ভোটার পূর্ব দিকে। তাহলে কোন যৌক্তিকতায় সাউদপাড়ায় ভোট সেন্টার থাকবে।
রবিউল ইসলাম বলেন, চিলাখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কোলকোন্দ ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তি স্থানে অবস্থিত।
এই বিদ্যালয়ে উপজেলা ও সংসদীয় ভোট গ্রহণ সম্ভব হলে ইউপি নির্বাচন ভোট গ্রহণ অসম্ভব কেন।  তারা  বলেন, আগে এই বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ করা হতো। পরে প্রায় ৪০  বছর ধরে সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। তাঁরা আবার চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ওমর  ফারুক  বলেন, ভোট কেন্দ্র স্থানান্তর এবং পূনবহালকে কেন্দ্র করেযেন কোন দ্বন্দ্বের সৃষ্টি না হয়। ওয়ার্ডের সব মানুষই আমরা এক তদন্তের প্রেক্ষিতে ভোট সেন্টার কোথায় হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের। আপনারা সকলেই দ্বন্দ্ব থেকে বিরত থাকবেন।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে তাঁদের কাছে কোনো চিঠি আসেনি। বিষয়টি তাঁদের জানানোও হয়নি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই; এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুর রহিম এর আগে জানিয়েছিলেন, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের চিঠি তাঁদের কাছে এসেছে। ভোটারসংখ্যার তারতম্যের কারণে এ ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ২৭০ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ১৮১ জন এবং নারী ভোটার ১ হাজার ৮৯ জন। সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই ভোটকেন্দ্র বহাল থাকবে, নাকি চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হবে—এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )