


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে গত ৪ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের মিছিলে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তার বাবা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতিসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ২২০জনকে আসামী করে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার (২৩ আক্টোবর) মামলাটি করেছেন হামলায় আহত ছাত্র রিয়াদের পিতা আব্দুল কুদ্দুস। সে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর তিলাই গ্রামের বাসিন্দা এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় সদস্য।
গত ২৪ অক্টোবর এই মামলায় আওয়ামীলীগের ৪ নেতাকর্মীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে। ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই আশরাফুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিবাদীরা গত ৪ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে আসার সময় দু’দফা হামলা চালিয়ে বাদীর ছেলে রিয়াদসহ কয়েকজন ছাত্রকে আহত করে এবং ৫টি মোবাইল ফোন চুরি ও মিছিলে ব্যবহৃত মাইক ভাংচুর করে।
এই মামলায় সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, তার পিতা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুন্নবী চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও শোভনের ছোটভাই রাকিনুল হক চৌধুরী ছোটনসহ উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে। এছাড়া আওয়ামীলীগ সমর্থীত তিলাই ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, শিলখুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, বঙ্গসোনাহাট ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম লিটন জাতীয় পার্টি সমর্থীত সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান রোজেনকেও আসামী করা হয়েছে।
মামলার বাদী আব্দুল কুদ্দুসের সাথে তার মোবাইল ফোনে এবিষয়ে কয়েকদফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। তবে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির আনোয়ার হোসেন বলেন, ওনার ছেলে আহত হবার কারণে অভিভাবক হিসাবে ওনি মামলা করেছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিন্ধান্তের আলোকে দলীয় ভুমিকা নির্ধারণ করা হবে।