1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
প্রতিদিন বসে পাখির মেলা খাবার খাওয়ান ফজলুল | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন

প্রতিদিন বসে পাখির মেলা খাবার খাওয়ান ফজলুল

কুড়িগ্রাম অফিস
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১৬৪ জন দেখেছেন
কুড়িগ্রামে প্রায় ৫ বছর ধরে নিয়মিত পাখিদের খাবার খাওয়ান ফজলুল হক(৪৫)।মাত্র ১০ মিনিটের জন্য তার বাড়িতে বসে পাখির মেলা। প্রতিদিন সকালে কমলা, রুটি, চাল ও চানাচুর মিশ্রিত খাবার দিতে হয় পাখিদের।নানান জাত ও বর্ণের পাখির ক্ষুধা মেটাতে প্রস্তুত থাকেন ফজলুল।পাখির খাবার খাওয়ানোর এমন দৃশ্য দেখতে লোকজনও ছুটে আসে।পাখিদের প্রতি এমন ভালোবাসায় বাকিটা জীবন যেন পাখিদের সেবা করতে পারেন এই প্রত্যাশা ফজলুল হকের।
ফজলুল হক কুড়িগ্রাম পৌর শহরের পলাশবাড়ি কবিরাজ পাড়া এলাকার মোঃ নছের আলী’র ছেলে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তখন সকাল ৬. ৩০ মিনিট ফজলুল হকের বাড়িতে কোন পাখির দেখা নাই।ঠিক ৫ মিনিটের মধ্যে কোথা হতে যেন হঠাৎ ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা উড়ে এসে অবস্থান নেয় বাড়ির চাল আর উঠানে।কিচিরমিচির শব্দে শুধু ফজলুল হকের ঘুম ভাঙে না,তিনি নিজেই বুঝতে পারেন সময় হয়েছে পাখিদের খাওয়ানো।ঘরে রাখা চানাচুর আর চালের মিশ্রিত খাবার হাতে নিয়ে বের হয়ে আসেন আঙিনায়।হাতের পাশে রাখা প্লাস্টিকের বয়াম থেকে পরিমান মত খাবার ছিটিয়ে দেন মাটিতে। ১০মিনিটের মধ্যে খাবার খেয়ে পাখিরা আবার উড়ে যায় অজানা গন্তব্যে।এভাবে নিয়ম করে প্রতিদিন শত শত পাখিদের খাবার খাওয়াচ্ছেন ফজলুল হক।
ফজলুল হক জানান,বছর চারেক আগে বাড়ির বারান্দায় বসে হাতে বানানো রুটি খাচ্ছিলাম।হঠাৎ দুটি কাক চলে আসে বারান্দায়। রুটির একটি অংশ ছুড়ে ফেলেন মাটিতে।নির্বিঘ্নে কাক দুটো খাবার খেয়ে চলে যায়। পরের দিন আমি আমার মত করে ঘরে শুয়ে আছি।কাক দুটি আবার বারান্দায় এসে ডাক শুরু করে।পরে ঘর থেকে বের হয়ে কাক দুটিকে উড়ে যেতে সাড়া দেই কিন্তু কাক দুটি উড়ে গিয়ে গাছের ডালে বসে কা -কা ডাক শুরু করে দেয়। বুঝতে পারি ওদের খাবার দিতে হবে।ঘরে থাকা চাল ছিটিয়ে দিলে ওরা গাছ থেকে নেমে এসে খাবার খেতে শুরু করে।পরে দিন একইভাবে ৫-৭ টি কাক উড়ে এসে খাবার খেয়ে যায়।পরে শুধু কাক-ই না, দোয়েল কাঠ ঠোঁকড়া, কয়েক জাতের সারস, বুলবুলিসহ অনান্য পাখিরা দলবদ্ধ হয়ে এসে খাবার খেয়ে যায়। এখন রোজ শতাধিক পাখিদের খাবার দিতে হচ্ছে তার। বাকিটা জীবন যেন এই ভাবে পাখিদের খাওয়াতে পারি এমন প্রত্যাশা ফজলুল হকের।
তিনি আরো বলেন অনান্য পাখিরা চানাচুর খেতে পছন্দ বোধ করলেও শুধু মাত্র বুলবুলির জন্য আলাদাভাবে কমলা ফল কেটে দিতে হয়। ফজলুল হকের স্ত্রী মোছাঃ শারমিন হক বলেন,বছরের পর বছর পাখিদের খাবার দিয়ে আসছেন তিনি।খাবার দিতে একটু দেরি হলে পাখিদের শোরগোল আরো বেড়ে যায়। দ্রুত খাবার দিলে খাওয়া শেষ মাত্র পাখিগুলো কোথায় যে চলে যায় জানা নেই।প্রথমের দিকে বিরক্তিকর মনে হলেও এখন ওদের প্রতি আমারো মায়া জন্মেছে। ওদের খাবার দিতে পারলে আমরা শান্তি পাই। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ নুর ইসলাম বলেন,আমাদের গ্রামে অনেক মানুষের বসবাস। পাখিরা কেন যে ফজলুল হকের বাড়িতে গিয়ে ফজলুল হকের হাতের খাবার খায় জানি না। রোজ রোজ পাখিদের খাবার খাওয়ার দৃশ্য দেখতে খুব ভালো লাগে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )