
রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নে প্রকাশ্যে একটি অটোগাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তা উদ্ধার হয়নি। বরং ভুক্তভোগী পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ছিনতাইয়ের অভিযোগ করার পরও পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৫ জানুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে শরিফুল ইসলাম (১৭) তার নতুন কেনা অটোগাড়িটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। মর্ণেয়া ইউনিয়নের আলেমার বাজার থেকে এক ব্যক্তি যাত্রীবেশে গাড়িতে ওঠে এবং মৌভাষা আলিয়া মাদ্রাসার পাশে দয়াল কবিরাজের বাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছালে রোগীর স্বজন সাদা মসজিদ হতে পানি আনতে হবে এজন্য শরিফুলকে অনুরোধ করে তার মোটরসাইকেলে নিয়ে যায়। তিনি মসজিদের সামনে পানি আনতে বলে, পানি নিয়ে এসে দেখে লোকটি নাই। পরে ফিরে এসে শরিফুল দেখেন, তার গাড়িটি রেখেনযাওয়া জায়গায় নাই ।
এ ঘটনায় গত ২৯ জানুয়ারি গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার । ঘটনার পরপরই হারাগাছ সাদা মসজিদের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলে, ছিনতাইকারীদের একজনের ছবি পাওয়া যায়। স্থানীয়রা তাকে মর্ণেয়া ইউনিয়নের চৌদ্দমাথার বাসিন্দা মোঃ ইয়াছিন আলী বলে শনাক্ত করেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।অভিযোগ দায়েরের পর থেকে ছিনতাইকারীরা উল্টো বাদী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২৯ জানুয়ারি রাত ১২টার দিকে মূল অভিযুক্ত ইয়াছিন আলী ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে চলে যান। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার দিকে ইয়াছিনের বন্ধু রিপন কাজীসহ ৭-৮ জনের একটি দল বাড়িতে এসে তাদের মারধর করে এক পর্যায়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ সদস্যের সামনেই ভয়ভীতি দেখায় এবং শরিফুলকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পরও গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। ছিনতাইকারীদের নাম-পরিচয় স্পষ্টভাবে জানানো হলেও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ না নেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন।
এ বিষয়ে থানার ওসির আল এমরান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ” যদি অটো ফিরিয়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটে এবং সিসিটিভি ফুটেজ থাকে, তবে বাদী এজাহার দাখিল করলে আমরা মামলা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
উল্লেখ্য : ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে এবং এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে উপার্জনের একমাত্র সম্বল অটোগাড়িটি ফেরত, নিজেদের নিরাপত্তা এবং দোষীদের শাস্তির জোর দাবী জানিয়েছে।
Related