


কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে টানা এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন বোরো ধানচাষিরা। গত দুই সপ্তাহ থেকে উপজেলা জুড়ে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাঁটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এক দেড় সপ্তাহ ধরে ব্যাপক পরিসরে ধান কাঁটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ধানচাষিরা। এরমধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে কখনো হালকা, মাঝারি ও ভারীবৃষ্টিপাত হওয়ায় অধিকাংশ খেতে পানি জমায় পাঁকা ধান কাটা ও কেটে রাখা ধানগুলো শুকিয়ে ঘরে তুলতে না পাড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। এরকম বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে খেতের পাঁকা ধান এবং বাড়িতে কেটে রাখা ধান নষ্ট হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
কৃষক ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে বোরো ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকেরা। ইতিমধ্যে ৪০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়াতে বোরো ধান কাঁটা ও শুকাতে না পাড়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকের কপালে।
উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা গ্রামের কৃষক কাসেম আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। খেতের সব ধান পেকেছে। ইতোমধ্যে দুই খেতের ধান ঘরে তুলেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ধান পুরোপুরি শুকাতে পারিনি। বাকী দুই বিঘা জমির ধান কাটতে পারছিন না। শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কমপক্ষে ৮ বার বৃষ্টি হয়েছে । বৃষ্টিপাতের ফলে ধানখেতে পানি জমে গেছে।
একই গ্রামের কৃষক শৈলান চন্দ্র রায় ও উপেন্দ্র নাথ রায় জানান, দেড় সপ্তাহ আগেই খেতের ধান পেয়েছে। কিছু জমির ধান কেটেছেন তারা। এক দিকে শ্রমিক সংকট ও অন্য টানা এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া থাকায় ধান মাড়াই ও ঘরে তোলার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ মজনু, কানাই নাল সরকার ও ভারত চন্দ্র রায় জানান, তাদের প্রত্যেকের পাঁচ বিঘা জমির একটা ধানও এখনো কাটা সম্ভব হয়নি। খেতজুড়ে পানি। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া থাকায় ধান কাটা সম্ভব হবে না। এ ছাড়াও ঝড়ে কিছু কিছু খেতের ধান গাছ বাতাসে নুয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা : নিলুফা ইয়াছমিন জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ৬ ইউনিয়নে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে ১০ হাজার ২০৫ হেক্টর। ইতোমধ্যে ৪ হাজার হেক্টর জমির ধান কর্তন হয়েছে। কৃষকরা বৃষ্টির কারণে পাকা ধান ঘরে তুলতে বিপাকে পড়েছে। তবুও বৃষ্টির মাঝেও কিছু কিছু কৃষক ধান কাঁটা অব্যাহত রেখেছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত ১৪ মে ৩৮.৮ মিলিমিটার ও ১৫, ১৬ মে ১২৮ মিলিমিটার এবং শনিবার (১৭ মে) বিকাল ৩ টার আগ পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪. ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২১ মে পর্যন্ত বজ্রপাতসহ হালকা, মাঝামাঝি ও ভারীবৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।