


রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় মোবারক আলী (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোচিত মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. মইনুল ইসলাম ওরফে মমিনুল (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মোবারক আলী গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাড়ি থেকে স্থানীয় শাহিন বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। রাতে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরদিন ভোরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। স্থানীয় আজগর আলী নামে এক ব্যক্তি মোবারকের ব্যবহৃত টাচ ফোনটি জমিতে ফ্ল্যাশলাইট জ্বালানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে নিখোঁজের ঘটনায় মোবারকের বড় ভাই কাউনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–১২৪০, তারিখ–২৬/০৯/২০২৫) করেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তল্লাশি চালিয়ে আসামী মইনুল ইসলামের বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে রান্নাঘরের পিছনে নতুন করে আলগা মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা জায়গা সন্দেহ হলে সেখানে খনন শুরু করা হয়। খনন করতে গিয়ে প্রথমে একটি লুঙ্গি এবং পরে মোবারক আলীর মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, আসামী মইনুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোবারককে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশে মাটিতে পুঁতে রাখে। ঘটনার পর থেকেই আসামী পলাতক ছিলেন।
পরবর্তীতে র্যাব–১৫ এর সদস্যরা কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানার মধুরছড়া ক্যাম্প– ০৪, ব্লক–ই/২ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করে। এরপর কাউনিয়া থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে আসামিকে নিজেদের হেফাজতে গ্রহণ করে রংপুরে নিয়ে আসে। বুধবার দুপুরে পুলিশ আসামিকে যথাযথ স্কর্টের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করে।
কাউনিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোকছেদ আলী জানান মো. মমিনুল ইসলাম “গ্রেফতারকৃত আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।” স্থানীয়রা জানান, হত্যাকাণ্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহত মোবারকের পরিবার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।