


রংপুরের পীরগাছায় জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে রোকেয়া বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা হলে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোকেয়া বেগম ওই এলাকার মৃত সুরত আলীর মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোকেয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আবুল কাশেমের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষ ও মামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।স্বজনদের দাবি, সুরত আলীর মৃত্যুর পর মেয়ে রোকেয়া বেগম পরিবার ও জমিসংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করতেন। এ কারণে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হয়। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে রোকেয়া বেগম পাশের বাড়িতে গোসল করতে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। এ সময় অভিযুক্ত মমিনুল ইসলাম ও তাঁর বোন শাহানা বেগম পথরোধ করে রোকেয়ার মুখ কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। পরে রোকেয়া বেগমকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিহতের ছোট ভাই আব্দুর রহিম বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় মমিনুল ইসলামসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৫ থেকে ৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। চর পূর্ব শিবদেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদশা আলম জানান, হত্যার ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। বর্তমানে নারী-পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামটি। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোমেনা বেগম ও শাহানা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর ইয়াকুব নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’