উপজেলা পরিষদ চত্বর ও উপজেলা অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে দুই দিনব্যাপী এ মেলা, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং ১০ম বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও জেসমিন আক্তার বলেন, “বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী চিন্তাই দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলেমুল বাসার, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজার রহমান, কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাইদ মো. আরিফ মাহফুজ, একাডেমিক সুপারভাইজার আমজাদ হোসেন, সমবায় কর্মকর্তা আবতাবুজ্জামান, অধ্যক্ষ নূরন নবী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজীবুল করিম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও বৈজ্ঞানিক মডেল উপস্থাপন করে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট কৃষি এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তৈরি নানা প্রজেক্ট দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন।
গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করে আমরা নতুন নতুন বিষয় শিখতে পারছি। নিজেরা কিছু তৈরি করার অভিজ্ঞতা আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
গজঘন্টা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর রহমান বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন খুবই প্রয়োজন। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী তৈরি হবে।
গঙ্গাচড়া মহিলা কলেজের ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, আমরা পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছি। ভবিষ্যতে এমন কিছু উদ্ভাবন করতে চাই, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগবে।
গঙ্গাচড়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান জানান, এ ধরনের আয়োজন আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। নিয়মিত এমন মেলা হলে আমরা আরও ভালোভাবে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন করতে পারব।
মেলা পরিদর্শনে আসা অভিভাবক ও স্থানীয় দর্শনার্থীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে এমন বিজ্ঞানভিত্তিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়ক হচ্ছে।
শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেরা প্রকল্প নির্বাচন করে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা আশা করছেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণামুখী মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।