1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পীরগাছায় ব্যালটের লড়াইয়ে উৎসবের আমেজ প্রাণবন্ত বিএনপির ওয়ার্ড নির্বাচন | দৈনিক সকালের বাণী
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন

পীরগাছায় ব্যালটের লড়াইয়ে উৎসবের আমেজ প্রাণবন্ত বিএনপির ওয়ার্ড নির্বাচন

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১৮২ জন দেখেছেন

ওয়ার্ডের প্রতিটি গলি যেন কথা বলছে! ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে ঝুলছে প্রার্থীদের পোস্টার, হাতে হাতে লিফলেট। সকাল হতেই ভোটকেন্দ্রের সামনে শুরু হয় কোলাহল—বয়স-ভেদে সবার চোখে একটাই চাওয়া: ‘কে হবে আমাদের প্রতিনিধি?’ বিএনপির এই ওয়ার্ড নির্বাচন যেন ভোটের চেয়েও বড় কিছু—এ যেন গণতন্ত্রের আরেক নাম।

 

মঙ্গলবার বিকেলে এমনই চিত্রের দেখা মিলে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড (দুধিয়াবাড়ি) বিএনপির কমিটি গঠনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে। দুধিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে তিনজন, সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন।

কেন্দ্রের সামনে গল্প আর প্রতিশ্রুতি:
‘ভাই, ভুলবেন না কিন্তু, ব্যালটে ভোট চাই!’—কেন্দ্রের এক কোণায় হাসিমুখে ভোটারদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন এক প্রার্থী। পোস্টারে তাঁর হাসি যতই নিখুঁত হোক না কেন, বাস্তবের মুখে চাপা ক্লান্তি। কিন্তু উৎসাহে বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই।
চারপাশে ছোট ছোট দলে ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করছেন। কেন্দ্রের ভিতর থেকে মাইকে ভেসে আসছে ঘোষণা—’ব্যালটের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কমিটি গঠিত হবে’

 

ভোটকেন্দ্রে উৎসবের ছোঁয়া:
দুপুর থেকেই কেন্দ্রে ভোটারদের সমাগম। হাতে স্লিপ, চোখে প্রত্যাশা। একজন বৃদ্ধ ভোটার বলেন, ‘বয়স হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভোট দেওয়া আমার দায়িত্ব। বিএনপির এই উদ্যোগ ভালো লাগছে।’ পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ ভোটার যোগ করলেন, ‘এই ভোটে আমাদের ভবিষ্যৎ গড়বে, তাই সবার অংশগ্রহণ জরুরি।’

ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। কেউ ভোটারদের নাম ধরে ডাকছেন, কেউ আবার ‘শান্তিতে ভোট দিন’ বলে হাসিমুখে পথ দেখাচ্ছেন। পুরো পরিবেশে যেন এক ধরণের গণতান্ত্রিক উৎসবের ঘ্রাণ।

 

কর্মীদের প্রাণচাঞ্চল্য: এক অন্য রকম দিন:
নির্বাচন মানেই কর্মীদের উচ্ছ্বাস। কেউ পোস্টার নিয়ে ছুটছেন, কেউ আবার ভোট গণনার আগের পরিকল্পনায় ব্যস্ত। লিটন মিয়া নামে বিএনপির এক কর্মী বললেন, ‘এটা শুধু ভোট নয়, এটা আমাদের চেতনার পরীক্ষা। প্রার্থীরা ভালো কাজ করবেন বলে বিশ্বাস করি।’

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর শিবিরেও কম উচ্ছ্বাস নেই। শান্ত নামে এক তরুণ সমর্থক হাত মেলাতে মেলাতে বললেন, ‘ভোট আমাদের শক্তি। এই নির্বাচন দলকে নতুনভাবে সংগঠিত করবে।’

 

উৎসব শেষে অপেক্ষার পালা:
দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা। ভোটের বাক্সগুলো খুলে গণনা চলছে। গুঞ্জন আর উত্তেজনা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। কে জিতবে? কে হবে জনগণের প্রতিনিধি?

এই নির্বাচন শুধু ভোটের লড়াই নয়। বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য এটা ছিল তাদের চর্চা, ভোটারদের জন্য গণতান্ত্রিক অধিকার প্রকাশের একটি উৎসব। সন্ধ্যার ফলাফল ঘোষণা সেই উত্তেজনার চূড়ান্ত পরিণতি।

১৭৫ ভোটের মধ্যে ১০৫ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন শহিদুল ইসলাম বুদা। ৮৬ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সাহাব উদ্দিন ও শেরে বাংলা ওরফে বাংলা ভাই ৫৭ ভোট পেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। এদিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম।

নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী আজাদ হোসেন। পোলিং অফিসার ছিলেন উপজেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু ইউসুফ চন্দন, আবু দাউদ সোহেল আনসারি, শফিকুল ইসলাম টুলু, আব্দুল আউয়াল, মোজাম্মেল হক, ফয়েজ আহমেদ মিলন ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মুকুল মিয়া প্রমুখ।

তবে যেই জিতুক না কেন, ওয়ার্ডজুড়ে আজ প্রাণবন্ত এক নির্বাচনের গল্প লেখা হয়ে গেল—গণতন্ত্রের গল্প, ব্যালটের গল্প।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )