বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে টায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রংপুর ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল শেখ মুহাম্মদ মুসাহিদ মাসুম সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, ধবলসুতি এলাকায় সকালে চাষাবাদের জমিতে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়রা বৈদ্যুতিক পিলার ও যন্ত্র স্থাপন দেখতে পেয়ে বিজিবিকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বর্ডারগার্ড ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লোহার বৈদ্যুতিক খুঁটি ও খুঁটির সাথে স্থাপিত যন্ত্রটি দেখতে পায়। কোনোকিছু না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে বিএসএফ কর্তৃক শূন্যরেখার মধ্যে এসব স্থাপনের প্রতিবাদ জানায় বিজিবি।
এর আগে মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা পাটগ্রাম ইউনিয়ন সীমান্তের শূন্যরেখার মধ্যে লোহার বৈদ্যুতিক খুঁটি ও অজানা একটি যন্ত্র স্থাপন করে।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রধান পিলার ৮২৯ নম্বরের ২ নম্বর উপপিলার পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের গাটিয়ারভিটা সীমান্তের শূন্যরেখার ৫০ গজ অভ্যন্তরে রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার বিএসএফের ৯৮ ব্যাটালিয়নের ফুলকাডাবরী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা সে দেশের নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও যন্ত্র স্থাপন করে।
পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিজিবি বিএসএফের নিকট তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বৈদ্যুতিক খুঁটি ও যন্ত্র সরিয়ে নিতে বলে এবং পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয়।
পরবর্তীতে ওই সীমান্ত পয়েন্টে সন্ধ্যায় (সাড়ে ৫ টায়) বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে ভারতের পক্ষে ৬ জন বিএসএফের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নের্তৃত্ব দেন ইন্সপেক্টর জিতেন্দ্র সিং।
বাংলাদেশের পক্ষে ৬ জনের নের্তৃত্ব দেন সুবেদার মাহবুবর রহমান। বৈঠকে কোনোকিছু না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে শূন্যরেখার মধ্যে খুঁটি ও যন্ত্র স্থাপন করার প্রতিবাদ জানায়। বিএসএফকে শূন্যরেখার মধ্যে কোনোকিছু নির্মাণ বা স্থাপনে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে চলার আহ্বান জানায় বিজিবি। নির্মিত খুটি ও যন্ত্র সরায়ে নিতে আহ্বান জানালে স্থাপিত যন্ত্র ও খুঁটি সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রংপুর ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২) এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল শেখ মুহাম্মদ মুসাহিদ মাসুম বলেন, বিএসএফ জানিয়েছ তাদের চা বাগানে নাকি বিভিন্ন ধরণের ক্ষতি হয়, এজন্য যন্ত্র ও খুঁটি স্থাপন করেছিলো।
আমরা ষ্পষ্ট জানিয়েছি শূন্যরেখার মধ্যে আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী কোনোকিছু স্থাপনা করার সুযোগ নেই। না জানিয়ে করা যাবেনা। এ নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। তারা নির্মিত স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে। চুপিসারে আর যেনো না করতে সেজন্য সর্তক দৃষ্টি রাখা হয়েছে। ‘