


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবিতে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তিসহ তাদের দাবি পূরণে আর আশ্বাস নয়, এবার দাবি মেনে নেওয়ার আগ পর্যন্ত সচিবালয় এলাকা ছাড়বেন না। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিট নাগাদ সচিবালয়ের সামনে তারা অবস্থান নেন। এরপর থেকে তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। তাদের কেউ মিছিল করছেন, কেউ সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
পরিসংখ্যান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বারবার আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। এবার আমরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এখানে থাকবো। ‘ এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে সেজন্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য সচিবালয়ের মূল ফটকে, কেউ শিক্ষার্থীদের আশপাশে সতর্ক অবস্থায় আছেন। পাশেই জলকামানের গাড়ি রাখা আছে।
পুলিশের এসি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করার শর্তে ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘রমনা বিভাগের ডিসি স্যার পুরো বিষয়টি সমন্বয় করছেন। আমরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছি৷ যাতে কোনো ধরনের ঝামেলা না হয়। আশা করি শিক্ষার্থীরা সহনশীল থাকবেন।’

এর আগে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) টানা ২৪ ঘণ্টা অনশন করার পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে এবং সাজিদ একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো ক্লাস পরীক্ষা হবে না। আমরা গত রাতেই ‘কমপ্লিট শাটডাউন ‘ ঘোষণা করেছি।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে অনশনরত শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা জানান, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দাবি না মানা হলে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করব। নির্ধারিত সময়ে দাবি পূরণ না হওয়ায় তা সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-
১. সেনাবাহিনীর কাছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ হস্তান্তরের চুক্তি অনতিবিলম্বে সই করতে হবে। প্রয়োজনে স্পেশাল মিটিং এর মাধ্যমে তা সম্পূর্ণ করতে হবে এবং ভিজ্যুয়ালভাবে সবার সামনে উপস্থাপন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা অনশনে থাকাবস্থায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নিয়ে তা প্রকাশ করতে হবে। কয়েক মাস সময় নেওয়ার নাম করে কোনও প্রকার দীর্ঘসূত্রিতার বন্দোবস্ত করা চলবে না।
২. পুরান ঢাকার বাণী ভবন ও ড. হাবিবুর রহমান হলের স্টিল বেইজড ভবনের কাজ দ্রুত শুরু এবং শেষ করতে হবে।
৩. যতদিন পর্যন্ত আবাসন ব্যবস্থা না হয় ততদিন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন ভাতা নিশ্চিত করতে হবে।