রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সরকারি সারের একটি চালান কালোবাজারে পাচারের সময় স্থানীয় গ্রামবাসীর তৎপরতায় আটক করা হয়। ১৪ জানুয়ারি রাতে গোডাউনের হাটের চাষী ঘরের স্বত্তাধীকারি কোলকোন্দ ইউনিয়নের গোডাউন হাটের ডিলার মেসার্স তাজ সার ঘর ও বড়বিল ইউনিয়নের ডিলার মেসার্স আব্দুস সামাদের কাছ থেকে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অটো যোগে নিয়ে যাওয়ার সময় গঙ্গাচড়া উপজেলা সংলগ্ন রাস্তায় সাধারণ মানুষ সন্দেহজনকভাবে ২টি অটো আটক করেন এবং প্রশাসনের নজরে আনেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়,সারগুলো কৃষকদের জন্য বরাদ্দ ছিল। তবে তা কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এসিল্যান্ড। আটককৃত ইউরিয়া ৬ বস্তা, টিএসপি ৭ বস্তা, এমওপি ৩ বস্তা এবং ডিএপি ৬ বস্তা কালোবাজারে বিক্রয়ের দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ এর ১২ ধারা মোতাবেক কোলকোন্দ গোডাউনের হাটের খোকন মিয়া (চাষী ঘর)কে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এবিষয়ে খোকন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সারগুলো কোলকোন্দের ডিলার মেসার্স তাজ সার ঘর ও বড়বিল ইউনিয়নের ডিলার মেসার্স আব্দুস সামাদ থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করি।
আটককৃত সারগুলো গঙ্গাচড়া মডেল থানায় রয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি বলেন,তদন্ত সাপেক্ষে আটককৃত সারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। একই রাতে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গাগড়া গ্রামের বাবুল মিয়ার পুত্র শুকুর আলীকে মাদক কারবারের দায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
১৫ জানুয়ারি দুপুরে গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পাকুড়িয়া শরীফ দেওয়ানী পাড়ায় ঘাঘট নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ভিত্তিতে গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি অভিযান পরিচালনা করেন। স্পটে কাউকে না পেয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে উত্তোলনকৃত বলু জব্দ করেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে উত্তোলনকারীদের বিরূদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশও প্রদান করেন ।
এবিষয়ে সহকারী কমিশনার( ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস উর্মি বলেন, উত্তোলনকারীদের স্পষ্টে পাওয়া যায় নাই। উত্তোলনকৃত বালু জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দিয়েছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,আমরা আশান্বিত, এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে।